বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গে মৃত ৭০ নমুনায় ১০ জনের করোনা শনাক্ত

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গে মৃত ৭০ নমুনায় ১০ জনের করোনা শনাক্ত
করোনা ভাইরাসের প্রতীকী ছবি।

রাজশাহীতে করোনা এবং উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তিন মাসে রাজশাহীতে উপসর্গে মৃত ৭০ জনের মধ্যে ১০ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। করোনায় মারা গেছেন আরও ১৩ জন। এদিকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা কমছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) ঘটেছে রাজশাহীতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড, আইসিইউ, আইডি এবং খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে করোনার উপসর্গে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় প্রতিদিন স্থানীয় গণমাধ্যমকে প্রথমে হোম আইসোলেন ও পরে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তের তথ্য দিলেও উপসর্গে মৃতদের কোনো হিসাব দেয় না। ফলে উপসর্গে মৃতদের হিসাব অন্তরালেই থাকছে। অথচ করোনার উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মৃতদের অধিকাংশই রামেক হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় সারা গেছেন।

তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের তথ্যে জানা যায়, গত ৮ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় করোনায় মারা গেছেন ১০৩ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১২ জন। উল্লেখ্য, রামেক ভাইরোলজি ল্যাবে গত ১ এপ্রিল থেকে প্রথম শিফট এবং ১২ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় শিফট এবং রামেক হাসপাতালে ৫ মে দ্বিতীয় ল্যাবে পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন চালু করা হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, রাজশাহীতে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে। কেউ-ই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। রামেক মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান বাদশা বলেন, করোনা রূপ বদলে যত জটিল হচ্ছে, মানুষও ততবেশি অসচেতন হচ্ছে। তাই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে রেড, ইয়েলো, গ্রিন চিহ্নিত জোন থাকা জরুরী, কিন্তু সেটা না থাকার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, আমরা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। যার ফলাফল এখন টের পাচ্ছি। এখন ভাইরাস অনেকটা ছড়িয়ে গেছে। এছাড়া ভাইরাস প্রতিনিয়ত রূপ বদল করছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এখন সাধারণ মানুষদের সচেতন হতে হবে।

এদিকে করোনায় রামেক হাসপাতালের আওতাধীন ২৯, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড, আইসিইউ ও খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চলছে। রোস্টার ও হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৫০ চিকিৎসক ইর্ন্টানের নেতৃত্বে চলছে চিকিৎসা। অন্যদিকে কয়েক রোগীর স্বজন অভিযোগে বলেন, ‘দিনে কয়েকবার শুধু নার্সেরা কিছু কাজ করেন। কিন্তু চিকিৎসক দূর থেকে দেখে-কথা বলেই চলে যান। চিকিৎসকের দেখাই পাওয়া যায় না। তাঁরা সবসময় নিজেদের নির্ধারিত কক্ষে থাকেন।’

এসব বিষয়ে কথা বলতে অনেক চেষ্টা করেও রামেক হাসপাতালের পরিচালককে পাওয়া যায়নি। তবে উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীর অনেকের করোনার উপসর্গ ছাড়াও হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, কিডনি, লিভারজণিত সমস্যায় মৃত্যু বেড়েছে। এছাড়া মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনরা অনেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। সংগৃহীত নমুনা বেশি হওয়ায় পরীক্ষায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমাদের যে জনবল আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এসি

ঘটনা পরিক্রমা : করোনা ভাইরাস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত