করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় করণীয়

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় করণীয়
করোনা ভাইরাসের প্রতীকী ছবি। ইনসেটে লেখক। ছবি: ইত্তেফাক

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ বেশ ভালোভাবেই সামলে উঠেছে। প্রথম পর্যায়ে সবার মধ্যেই ভয় ছিল। চিকিৎসকরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভয় কাটিয়ে উঠেছেন। এখন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিত্সা পদ্ধতিও চিকিৎসকদের আয়ত্তে চলে এসেছে। তবে এখনো করোনার সংক্রমণ থেমে যায়নি। ফলে সামনের আরও কয়েকটি মাস স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে—করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। যদিও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হবেই তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। সবাই আশঙ্কা করছেন, শীতকালে করোনার সংক্রমণ বাড়বে। এর একটি কারণ চীনে যখন করোনা ছড়াতে শুরু করে তখন সেখানে শীতকাল ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে যেসব দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে সেসব দেশও শীতপ্রধান দেশ ছিল। ফলে সবাই বলতে লাগল শীতে করোনা ছড়ায়। গরম প্রধান দেশে করোনা ছড়ায় না। ফলে বাংলাদেশে করোনা তেমনভাবে সংক্রমিত হবে না। কিন্তু আমরা পরে গরম প্রধান দেশসহ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া রয়েছে এমন দেশেও করোনার সংক্রমণ ছড়াতে দেখেছি। ফলে এসব কোনো কিছুরই কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

তবে হ্যাঁ, শীতের সময় যেহেতু ঘরের দরজা জানালা বন্ধ থাকে। ঘর থাকে বদ্ধ। ফলে, বদ্ধ ঘরে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। তাছাড়া, শীতের সময় অন্যান্য ভাইরাসের প্রকোপও বাড়ে। সেসব থেকে ধারণা করা হচ্ছে শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যদি আসেই তখন আমাদের সাবধানতা অবলম্বন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আসলেই কোনো বিকল্প নেই। এখনই রাস্তাঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে অনেকেই করোনাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। কিন্তু করোনাকে হালকাভাবে নেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি। আমাদের কঠোরভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। শীতকালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের যে কথা বলা হচ্ছে, তা আমাদের এই অসচেতনভাবে চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জনসাধারণকেও এই সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করে চলেছে। এ কথা মানতেই হবে আমাদের চিকিত্সকরা করোনা মোকাবিলায় চিকিত্সা পদ্ধতি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এসেছেন। সঠিক সময়ে চিকিত্সা শুরু করতে পারলে এবং শারীরিক অন্য জটিলতা না থাকলে এখন করোনা সংক্রমণে মৃত্যু কারো হবে না। তাই করোনা শনাক্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, অফিস-আদালতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।

লেখক : প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক

ইত্তেফাক/ইউবি

ঘটনা পরিক্রমা : করোনা ভাইরাস

পরবর্তী
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত