ঢাকা সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া

পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া
উইকেট নেয়ার পর প্যাট কামিন্সের উল্লাস। ছবি-সংগৃহীত

পাকিস্তানের ইনিংসটা যেন আশা-নিরাশার দোলাচলে দোলছিল বেশিরভাগ সময়। শুরুর দিকে পাল্লাটা পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকে ছিল। মাঝে একটা ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় তাদের সেই আশা। সেখান থেকে দলকে টেনে আবারও লড়াইয়ে ফেরান অধিনায়ক সরফরাজ খান ও ওয়াহাব রিয়াজ। এই দুজনের লড়াকু মনোভাব এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই ‍লড়াইয়ে শেষ রক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪১ রানে হেরে গেছে সরফরাজ বাহিনী।

এই জয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের লিগ পর্বে ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ওঠে গেল অস্ট্রেলিয়া। অপরদিকে সমান ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরেই রয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তান অবশ্য শেষ দিকে ভালো লড়াই করেছে। পাঁচ উইকেট হারানোর পর হঠাৎ যেমন ভেঙে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তানের তেমনটি হয়নি। ৩০৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ১৪৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারালেও তারা ইনিংস শেষ করেছে ২৬৬ রানে। যদিও তখনো খেলার ২৬ ওভার বাকি ছিল।

আরও পড়ুন : ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে জুয়ার আসর, আটক ৬

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন ফখর জামান। এরপর ইমাম-উল হক ও বাবর আজম ধীরে ধীরে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৫৬ রানে বাবর আজম (৩০) আউট হয়ে গেলে ফের চাপ তৈরি হয়।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সেঞ্চুরিয়ান ডেভিড ওয়ার্নার। ছবি-সংগৃহীত

সেখান থেকে মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ইমাম-উল হক। তবে দলীয় ১৩৬ রানে এ দুজনের ৮০ রানের জুটি ভেঙে গেলে পাল্টে যায় চিত্র। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৩ রান করে ইমাম তখন ফিরে যান। এরপর হঠাৎ সাইক্লোন বয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে। ১০ রানের ব্যবধানে আউট হয়ে যান হাফিজও (৪৬)। ২৪ রানের মধ্যে আরও তিন উইকেট হারায় দলটি।

এরপর সপ্তম উইকেটে হাসান আলীকে নিয়ে অধিনায়ক সরফরাজ দুশ’ রান স্পর্শ করেন। হাসান (৩২) তখন আউট হয়ে গেলে ফের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে অষ্টম উইকেটে ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে ৬৪ রানের দারুণ জুটি গড়ে প্রতিপক্ষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেন সরফরাজ।

দলীয় ২৬৪ রানে ওয়াহাব রিয়াজের (৪৫) উইকেট তুলে নিলে অসি শিবিরে স্বস্তি ফিরে। বাকি দুই উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া আর দুই রান যোগ করে। সরফরাজ করেন ৪০ রান। অসি বোলারদের মধ্যে প্যাট কামিন্স সর্বোচ্চ তিনটি এবং মিচেল স্টার্ক ও ক্যান রিচার্ডসন দুটি করে উইকেট নেন।

বুধবার বিকেলে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে পাকিস্তানের বোলাররা ওয়ার্নার-ফিঞ্চ জুটির কাছে একরকম অসহায় হয়ে পড়ে। ওপেনিং জুটি ভাঙতেই তাদের অপেক্ষা করতে হয় দলীয় ১৪৬ রান পর্যন্ত। ফিঞ্চকে মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচে পরিণত করে বহুল প্রতীক্ষিত ওপেনিং জুটি ভাঙেন আমির। আউট হওয়ার আগে ৮৪ বল থেকে ৮২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ।

পাকিস্তানের পক্ষে পাঁচ উইকেট নেয়া মোহাম্মদ আমির। ছবি-সংগৃহীত

অপর ওপেনার ওয়ার্নার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। দলীয় ২৪২ রানে ১১১ বল থেকে ১১টি চার ও একটি ছক্কার মারে ১০৭ রান ফিরেন তিনি। ৪২.১ ওভারে ২৭৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। অথচ শেষ ৭.৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান করে বাকি পাঁচ উইকেট হারায় দলটি। তাই ৪৯ রানে ৩০৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেউ উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। আমির মাত্র ৩০ রান দিয়ে নেন পাঁচ উইকেট। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ উইকেটে সংগ্রাহক হলেন তিনি। তাছাড়া এটি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত সেরা বোলিং ফিগার।

ইত্তেফাক/কেআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন