বাংলা খেয়ালের জনক সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান আর নেই

বাংলা খেয়ালের জনক সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান আর নেই
সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান। ছবি : সংগৃহীত

বিখ্যাত সুরকার, বাংলা খেয়ালের স্রষ্টা গুণী সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান আর নেই ((ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। শনিবার রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা চলছিল। শনিবার বেলা সাড়ে চারটায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আজাদ রহমান। তিনি স্ত্রী এবং তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী যুগের জনপ্রিয় অসংখ্য গানের সুরকার ও রচয়িতা তিনি। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’সহ বহু গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। এসব গানের কোনটির সুরকার তিনি, কোনটির সঙ্গীত পরিচালক। রাজ্জাক পরিচালিত প্রথম ছবি ‘অনন্ত প্রেম’-এ ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’ বিখ্যাত গানটি বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা এই গানে আজাদ রহমানের সুরে গেয়েছেন খুরশিদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিন।

আজাদ রহমান সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে খ্যাতিমান। পাশাপাশি তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও খেয়াল গানের চর্চা করতেন। তাকে বাংলাদেশের খেয়াল গানের জনকও বলা হয়। বাংলা একাডেমি থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা সঙ্গীত বিষয়ক বই ‘বাংলা খেয়াল’। দেশের চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্যও ছিলেন।

১৯৭৭ সালে ‘যাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রের জন্য এবং ১৯৯৩ সালে ‘চাঁদাবাজ’চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ‘চাঁদাবাজ’চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

আজাদ রহমান ১৯৪৪ সালের পহেলা জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেয়ালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি কীর্তন, ধ্রুপদী সঙ্গীতের পাশাপাশি খেয়াল ও টপ্পার চর্চা করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন আজাদ রহমান।

চলচ্চিত্রের গানে তার পথচলা শুরু কলকাতার জনপ্রিয় বাংলা ছবি ‘মিস প্রিয়ংবদা’র সঙ্গীত পরিচালনা দিয়ে। এই ছবিতে তার পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরতি মুখোপাধ্যায়। বাংলাদেশে তিনি প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ ছবিতে। এরপর ‘বাদী থেকে বেগম’, ‘এপার ওপার’, ‘পাগলা রাজা’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘আমার সংসার’, ‘মায়ার সংসার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘মাসুদ রানা’সহ বহু ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘গোপন কথা’নামের একটি চলচ্চিত্র।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত