নারীর মন ও মননের শৈল্পিক প্রকাশ ‘আঁধার কন্যা’

নারীর মন ও মননের শৈল্পিক প্রকাশ ‘আঁধার কন্যা’
বইয়ের প্রচ্ছদ

‘আঁধার কন্যা’ বইটা হাতে নিয়ে প্রথমে ভেবেছিলাম এটা সম্ভবত একটা গল্পের নামেই বইয়ের নামকরণ। কিন্তু বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে যত গভীরে প্রবেশ করি, ততই জীবন-সংসারে নারীর অন্ধকার জীবনের বিমূর্ত ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় চোখের সামনে। সমাজের অতল খুঁড়ে তুলে আনা প্রায় প্রতিটি গল্পেই ফুঁটে উঠেছে নারীর মন, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-অনুভূতি ও অন্ধকারে হারিয়ে ফেলা জীবনের গল্প। একজন পাঠক হিসেবে আমি খুঁজে পাই আমাদের চারপাশে এমন হাজারও আঁধার কন্যার সন্ধ্যান। সেই সাথে মুগ্ধ হওয়ার মতো বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র ও প্রকৃতির সুনিপুণ বর্ণনা প্রতিটি গল্পকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে লেখকের ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনা করে। দীর্ঘদিন ইউরোপে বসবাস করেও বাংলার রূপ-প্রকৃতি যে এতোটুকু মুছে যায়নি লেখকের মন থেকে, তা স্পষ্ট হয় প্রতিটি গল্পে।

বইটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার আগে পরিচয় করিয়ে দিই লেখক তসলিমা হাসানের সঙ্গে। তার জন্ম বরিশাল শহরে। সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে অনার্স শেষ না হতেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। নব্বইয়ের দশকে উত্তর আমেরিকা ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখেছেন। এরপর দীর্ঘদিন দূরে ছিলেন লেখালেখি থেকে। ১৯৮১ সাল থেকে জার্মানিতে তিন বছর কাটিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কানাডায়। সেখানে চাকরি ও নানান ব্যস্ততার মধ্যেও নিরবে-নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছেন সাহিত্য-সাধনা।

লেখকের সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো; লেখক দীর্ঘসময় প্রবাসে কাটালেও বাঙালির পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থাপনা, সংসার নামক বেড়াজালে ঘেরা বিভিন্নস্তরের ব্যক্তি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার স্যাপার দারুণভাবে ধরতে পেরেছেন। নারী-পুরুষের সম্পর্কের বর্ণনায় লেখক সহজসরল ভঙ্গিতে লিখেছেন, ‘‘পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীলোকের নেশার পার্থক্য আছে। মেয়েরা খেলার ছলে নেশা শুরু করে। নেশা ক্রমশ জমজমাট হয়। নেশাকে আঁকড়ে ধরে তারা ভালোবাসা ভালোবাসা বলে কাঁদতে থাকে। পুরুষ উল্টো পথে এগোয়। ভালোবাসার নাম নিয়ে নেশা শুরু করে। ভালোবাসা কেটে গেলে নেশাকে তখন ভালোবাসা বলে চালাতে চেষ্টা করে। নেশা ক্রমশ ফিকে হতে থাকে। একঘেয়ে বিরক্তিকর লাগে। পুরুষ তখন নেশার নতুন উপকরণ খোঁজে।’’

৮০ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করেছে জয়তী প্রকাশনী। বইয়ে সর্বমোট গল্প আছে ১২টি। মূল্য ধরা হয়েছে ১৮০ টাকা।

বইটি সম্পর্কে কবি আসাদ চৌধুরী লিখেছেন, প্রবাসে যারা লেখালেখি করেন, প্রায়ই দেখেছি তারা স্মৃতি-তাড়িত হয়ে লেখেন। প্রবাসী জীবনের টুকরো টাকরা ছবি আমি তার লেখায় দেখতে পাই। তার গল্পে নারী জীবন, নারীর ভাবনা ও অনুভ’তি যথেষ্ট প্রাধান্য পায়। এছাড়া তিনি পারিবারিক সম্পর্ককেও তার লেখায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেন।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত