‘অনুরূপতা’

‘অনুরূপতা’
লেখক তসলিমা হাসান

বাইরে রৌদ্রোজ্জ্বল দ্বিপ্রহর। অফিসের জি. এম স্যারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে আমি বসা। বিশাল টেবিলের অপরপ্রান্তে বসে তিনি মনোযোগী আমারই দেওয়া একটি ফাইল এর ভেতর। মাথাটা ফাইলের দিকে ঝুঁকেই জিজ্ঞেস করলেন-

কেমন আছো নিপা?

ভালো ! আপনি কেমন আছেন?

এইতো! কোথায় আর ভালো থাকতে দিলে, মৃদু হেসে বললেন।

মানে?

তুমিতো তো আমাকে কিছু জানালে না!

কোন ব্যাপারে বলুন তো?

ওই একই কথা গত একবছরে কতবার বলেছি বলতে পারবে নিপা? চাপা স্বরে ফাইলের থেকে মুখ না তুলে বললেন তিনি।

ভালোবাসা বলাটা খুব সোজা রক্ষা করাটা ঠিক ততটাই কঠিন,জানেন তো!

যেমন ধরুন আপনার বউ বাচ্চা আছে তারপরও আপনি অন্য একটি মেয়েকে কেন ভালবাসেন কারন আপনার বউ আপনার কাঙ্খিত চাওয়ার মত না!

আচ্ছা! আপনি কি করে নিশ্চিত হলেন যে , এই আমি যদি চার দেওয়ালের ভেতর আপনার সঙ্গে একসাথে জীবনযাপন শুরু করি তাহলে আমিও আপনার বউয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত হবো না! দায়িত্ব, নির্ভরশীলতা গড়ে ওঠার পর এই আমার প্রতিও আপনি আগ্রহ হারাবেন না, তা কিভাবে বুঝলেন! বাইরের এই আমার সাথে চার দেওয়ালের ওই আমার অনেক পার্থক্য জানেন?

আমাকে বারবার ভালোবাসার কথা বলে আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি অন্যায় করছেন।

এবার তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কেন অন্যায় হবে? আমি ওর সব চাহিদা পূরণ করছি। এমনকি শারীরিক বা বাহ্যিক সবই। আর তাছাড়া তোমার সাথে আমার প্রচ্ছন্ন একটা সম্পর্ক। যেটার কোন রূপ দেইনি আমরা কেউই!

হাসালেন আমাকে!

ভালোবাসাটা আপনার হতেই পারে যে কারো প্রতি! সেটা ন্যায় কি অন্যায় তার বিচার আপনিই করতে পারবেন যদি নিজের আত্মসমালোচনা করার যোগ্যতা আপনার থেকে থাকে। আর শুধুমাত্র শারীরিক বা বাহ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য আপনার স্ত্রী নিশ্চয়ই আপনার সাথে একসঙ্গে বসবাস করেন না! কিংবা আপনিও! আর প্রচ্ছন্ন সম্পর্কের কথা বলছেন। যে কোন লুকায়িত সম্পর্কই অন্যায়, যা আপনি লোক সমাজ বা পরিবারকে আড়াল করে ধরে রাখতে চান।

এবার উঠতে হচ্ছে, কারণ এতোক্ষণে কিছু উসখুস দৃষ্টি দরজায় বাইরে হয়তবা ধৈর্য হারাচ্ছে।

কেন বলো তো?

তারা আপনাকে সম্মান করে, ভালোবাসে তাই!

আর আমাকে হিংসেও করে! হা হা হা...

তাই নাকি!

হুম! তাদের সমপর্যায়ে থেকেও আমি আপনার কাছে আলাদা গুরুত্ব রাখি সেটা না বোঝার মতো বোকা কেউ না। আর সেটাই হিংসের কারণ।

তাহলে এতোকিছু বুঝেও তুমি কেন আমাকে প্রশ্রয় দাও, যেন আমিও আমার ভালোবাসার কথাটুকু তোমাকে বোঝাতে পারি?

তার একটা ব্যাখ্যা আমার কাছে আছে! দিনশেষে আমিও খুব একা। নিঃসঙ্গ জীবনে একজন কাছের মানুষের অভাব তো আছেই। খুব ইচ্ছে করে প্রশস্ত বুকে মাথা রেখে একটু ভরসা করি। নিজেকে হাল্কা করি সব দায়িত্ব দিয়ে।

কিন্তু তার দায় নিতে ইচ্ছে করে না।

চলি...

একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির সিনিয়র অফিসার আমি। প্রায় চার বছর যাবৎ এই অফিসে। তিন বছরের একটি মেয়ে রেখে আমার স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর হলো। শ্বশুর-শ্বাশুড়ী একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নাতনিকে নিয়ে পুত্র শোক ভুলে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আমিও হয়তবা সেই একই কারণে আজ পর্যন্ত তাদের থেকে আলাদা হওয়ার কথা ভাবতে পারিনি। একজন ননদ আছে, বিয়ে করে বিদেশে নাড়ি গেড়েছে বহুবছর। আর এভাবেই দিন চলে যাচ্ছে আমার সংসার আর অফিস সামলিয়ে।

অর্ক আহমেদ। এই অফিসের জি.এম। মাঝারি বয়স,প্রখর ব্যাক্তিত্বের অধিকারী। উনার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত হয় গতবছর অফিসিয়াল পিকনিকের পর থেকে। ঢাকা থেকে বেশ দূরে একটা খামার বাড়িতে আমরা সব কলিগরা মিলে পিকনিকে যাই। এম.ডি স্যারের আয়োজনে প্রতি বছর করা হয় পিকনিক। অনেকেই সপরিবারে আসে। আমার মেয়েটাকে অনেক বলেও আনতে পারি না। একবার এসে খুব বোর হয়েছে সে।

খামারবাড়িটা সুন্দর। সামনে বিস্তৃত খোলা মাঠ। শহর থেকে বের হয়ে এমন একটা খোলা মাঠ পেলে নিশ্বাস নেওয়া যায় প্রাণ ভরে। খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে খালি পায়ে হাঁটছিলাম ঘাসের ওপর দিয়ে। হঠাৎ একটুকরো কাঁচে পা কেঁটে গলগলিয়ে রক্ত পরা শুরু হলো। একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলো রিসেপশনিস্ট দীপ্তি। দূর থেকে আমার মৃদুস্বরের কাতরানোর আওয়াজ আর বসে পড়তে দেখে দৌড়ে কাছে এলো। এরপর যথারীতি সবাই মিলে বিভিন্ন উপায়ে রক্ত থামানোর চেষ্টা করতে লাগলো। এমন সময়ে অর্ক তার গাড়িটি এনে দিপ্তীকে বললো আমাকে গাড়িতে তুলে দিতে। আশেপাশে কোথাও একটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সেখানে নিয়ে যাবে। আমাকে পেছনের সিটে তুলে দিয়ে যখন দিপ্তী দরজাটা বন্ধ করতে যাবে তখন অর্ক বললো, আপনিও চলুন। অন্য দরজা খুলে দিপ্তী আমার পাশে বসলো। রক্তের গতিটা তখন একটু কমের দিকে। তারপরও কিছুটা ব্যথা আর আতংকে আমি গা এলিয়ে দিলাম পেছনের সিটে।চারটা সেলাই লাগলো সেই কাটায়। বেশ কয়েকদিন ভোগালো আমাকে ঐ দূর্ঘটনায়।কিন্তু এই 'পা' কাটা নিয়ে খোঁজ খবর করতে গিয়ে অর্কের সাথে আমার ফোনালাপ শুরু।

অর্কের এই মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেওয়ার ছুতোয় অথবা কোন কাজের বাহানায় ফোনের অপেক্ষায় আমিও থাকি।

ওর গম্ভীর অভিব্যক্তি, সংবেদনশীলতা, অকপটতা সর্বোপরী আমার ব্যাপারে যত্নশীলতা আমাকে একটু একটু করে দুর্বল করে তোলে।বুকের ভেতর শূন্য স্থানে একট টুকরো বিশুদ্ধ বাতাসের আসা যাওয়া আমাকে সস্থি দিতে শুরু করে।

তরী! অর্কের বৌ। অর্কর মুখ থেকেই জানা, বাবার বন্ধুর মেয়েকে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে সে। কিন্তু শুরু থেকেই ওদের সম্পর্ক উত্তাপহীন, শান্ত বা নিথর। ঠিক যেমন কোন গ্রামের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা শাখা নদী। বহমান কিন্তু দুই পাড় শুকনো একটা ঢেউবিহীন মৃত সাদৃশ্য। বিশাল ধনীর মেয়ে তরী কখনোও ম্যধবিত্ত অর্কের পরিবারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি অথবা আদৌও চেষ্টাও করেনি। প্রথমেই তার গাঢ় দাবিতে অর্ককে আলাদা ফ্ল্যাটে চলে যেতে হয়।সেক্ষেত্রে অর্কের বাবা এই সিদ্ধান্তে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। তিনি অস্বাচ্ছন্দ্য তরীর মনের ভাব বুঝতে পেরে বললেন, অর্ককে আলাদা বাসা নিতে। বড় ছেলে হিসেবে নিজেকে খুব ব্যর্থ মনে হলেও শুধুমাত্র বাবার কথার গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অর্ক আলাদা হয়ে যায়। আর তরীর সাথে অদৃশ্য দেওয়ালের গাঁথুনি ঐ থেকেই শুরু।

তরীর স্বাধীনচেতা চলাচল, উদ্ধৃত মনোভাব এবং সংসারের প্রতি উদাসীনতা কোন কিছুই অর্কের মানসিকতার সাথে যায় না। তবুও একজন মানুষ হিসেবে সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখাকে সে তার দায়িত্বের মধ্যে ফেলে রাখে।

অফিস থেকে বের হয়ে দেখি গেটের বাইরে ফুটপাতে দাঁড়ানো অর্ক। হতে পারে আমারই বেরোনোর সময় সে ইচ্ছে করে এখানে ফোনে ব্যস্ততার ভানে ছিলো। সামনে তার ব্যবহৃত নোয়া গাড়িটি হুকুমের অপেক্ষায়! আমাকে দেখে একটু এগিয়ে এলো ইতস্ততভাবে। বানানো ব্যস্ততাটাকে ইস্তফা দিয়ে বললো, বাসে করে যাবে?

হ্যা!

মুখটা একটু বিষন্ন করে বললো, আজ খুব কঠিন কথা শুনালে। অবশ্য তুমি আগাগোড়া কঠিনই সবসময়!

তাই! হজমে অসুবিধা হচ্ছে?

বুকের ভেতর আটকে যায়! ঠিক অন্যদিকে তাকিয়ে উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলো সে ক্রমাগত।

আমার সব কথার দায় না নিলেই হয়!

ওজনদার কথা বলো যে!

না মাপলেই পারেন!

এবার চুপ হয়ে অর্ক পরাজিত সৈনিকের মতো এদিকওদিক তাকাচ্ছিলো। তার এমন দিশেহারা অবস্থা দেখে বললাম, চলেন!এবার কথাগুলো প্রায়শ্চিত করি।

ঘুরে দাড়িয়ে বললো, কি?

কোথাও গিয়ে এক কাপ চা বা কফি খাই! তবে আপনার গাড়িতে নয়। হেঁটে যেতে হবে। সামনে একটা কফি সপ্ আছে।

তাতে প্রায়শ্চিত হবে!

কঠিন কথা বলে আপনার মনে যে কষ্ট দিয়েছি সেই কষ্টটা দূর করে যদি আবার মনকে স্ব-স্থানে আনতে পারি তাহলেই তো প্রায়শ্চিত হয়!

এবার তাকিয়ে হেঁসে ফেলে বললেন, মাফ করো!!

কফি খেতে খেতে অফিসের কিছু অপ্রয়োজনীয় আলাপ করছিলাম শুরুতে।কিন্তু নিরবভাবে আবার মনের মধ্যে অজানা আশংকায় তোলপাড় হচ্ছিল খুব। হয়ত অর্করও। এই প্রথম আমরা খুব কাছাকাছি বসে একান্তে একটু সময় কাটাচ্ছি।নিস্তেজ হয়ে টেবিলে পড়ে থাকা আমার হাত দুটো তুলে ধরে হঠাৎই সে বললো, তোমার হাত দুটো খুব সুন্দর! আঙুলের মাথা গুলো চেড়া, নকগুলো ভোঁতা আর কিছু পোড়া দাগের এই হাত ঠিক মায়ের মতো। নেইল আর্ট করা ম্যানিকিউর বিশিষ্ট কৃত্রিম হাত তোমার না! তোমার এই হাতে আছে মায়া জড়ানো অনেক ভালোবাসা।

মুহুর্তেই আবার হাতটা ছেড়ে দিয়ে বললো, জানো নিপা! আমার কখনোই মেয়েদের ব্যাপারে কোন আলাদা ফেসিনেসন ছিলো নাহ। তবে মনের মধ্যে কোথাও একটা ইচ্ছে ছিল যে খুব ঘরোয়া মায়ের মতো হবে আমার জীবনসঙ্গী। ছোটবেলা থেকেই আমি চুপচাপ স্বভাবের। তাই একটা একাকিত্ব আমার সারাজীবনের সঙ্গী। জীবনসঙ্গী পেয়েও আমার সেই একাকিত্ব ঘুচলো নাহ। বরং দিন দিন ঐ একাকিত্বের ওজন আমাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

অর্কের দীর্ঘশ্বাস মেশানো কথাগুলো আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুললেও আমি বাইরে একটা কপাট গম্ভীরভাব রেখে বললাম, সে আমরা বেশীরভাগই ভেতরে ভেতরে একা। জীবনসঙ্গীর সাথে নিত্যদিনের দায়িত্ব, নির্ভরশীলতা মতের কিছু অমিল সামলাতে সামলাতে মনের খোরাক মেটানোর ইচ্ছেটুকু হারিয়ে ফেলি। তাই ঘরের বাইরে এসে খুজতে শুরু করি দায়িত্ববিহীন কোন মানুষের কাছে মনের ভার লাগোবের জন্য আশ্রয়। অনেকেই তখন ভুল করে। ভাবে এই তো সেই মানুষ যাকে সঙ্গী করা যায়। তারপর পুনরায় তাকে চার দেয়ালের ভেতর এনে বুঝতে পারে আসলে সবই এক। দায়িত্ব এসে গেলে দায় হয়ে যায় সবাই।

অর্ক কতটা বিচক্ষণ সেটা আমি অনেকবারই দেখেছি। ঐ পিকনিকের দিনে সে আমাকে একাই নিয়ে যেতে পারতো ক্লিনিকে। কিন্তু আমাকে নিয়ে কেউ বাঁকা কোন কথা যেন তুলতে না পারে তাই দিপ্তীকে সাথে নিলো। তবুও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে অনেকেই বুঝতে পারতো আমার প্রতি তার আলাদা দুর্বলতাটুকু। আমিও টের পেতাম, যে কোন দায়িত্বশীল কাজের ভার সে আমাকে দিয়ে করাতো। আবার কাজ শেষে সবাইকে সংযতবাক্ভাবে বুঝিয়ে দিতো আমি কতটা পারদর্শী। যে কোন মিটিং এ আমার দেওয়া কোন সিদ্ধান্তের আলাদা একটা গুরুত্ব পেতো শুধু অর্কের জন্যই।নিয়মনীতির ক্ষেত্রেও আমি কিছুটা শিথিলতা পেতাম।কিন্তু কিছুদিন পর আমার জন্য এসব আলাদা কদর আমি আর নিতে পারছিলাম না। আত্মসম্মানে খুব বিঁধছিলো যেন, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম দূরে সরে যাওয়ার। ননদের বহুদিন ধরে বিদেশে সেটেলড হওয়ার অনুরোধ এবার আমি মেনে নিলাম।

বিভিন্ন জটিলতা পার করার পর অবশেষে মাস ছয়েক পর আমার, শ্বশুর-শাশুড়ী এবং মেয়ের ভিসা হয়ে গেল।

সত্যি বলতে এই সংসারের বাইরে গিয়ে অন্য কারো দায়িত্বে জড়ানো অসম্ভব আমার জন্য।তাছাড়া অর্কও অদৃশ্য এবং অনিচ্ছায় হলেও একজনের বাধাঁনো সুতোয় বাধাঁ। কারো সংসারের অনাকাঙ্খিত নিয়তির কারণ হতে পারবো না মরে গেলেও। আর পাশাপাশি থেকে অর্কের এই ভালোবাসা বারবার প্রত্যাখ্যান করাটাও খুব মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিলো মনে। তারচেয়ে এই ভালো, আমি বরং দূরেই চলে যাই।

রাত প্রায় দুইটা। গাড়ির পেছনের সিটে আমি, আমার মেয়ে আর আমার ভাই। সামনের সিটে আমার শ্বশুর -শাশুড়ী। বাইরের একটা হাল্কা ঠান্ডা বাতাস আমার সারাদিনের ক্লান্তিটাকে দূর করে দিচ্ছিলো। আধ খাওয়া চাঁদটার দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতর শূন্যতাটা আবার স্পষ্ট হয়ে চোখের পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে যাচ্ছিলো আমাকে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর আমি বহুদূর চলে যাবো এই চেনা শহর ছেড়ে। প্রিয়জন, প্রিয়মুখগুলো দেখতে পাবো না ইচ্ছে করলেও। কতগুলো প্রিয় মুখের ভেতর বারবারই অর্কর অসহায় মুখটা ভেসে আসছিলো চোখের সামনে। আমার বিদেশে পাড়ি দেওয়ার কথা শুনে নিস্তব্ধ হয়ে গেছিলো সেদিন। দুই দিন কিছু বললোই না। তারপর একদিন রাতে হঠাৎই ফোন করে আকুতিভরা স্বরে বললো, আমি কি তোমাকে খুব বিরক্ত করছিলাম, নিপা! আর করবো না। আর ফোন দিবো নাহ। তবুও তুমি থাকো। এ শহরে তুমি ছাড়া অন্য কেউ নেই আমার মনের মানুষ। বিশ্বাস করো আর কেউ নেই যার কাছে আমি একদণ্ড নিজেকে উজার করে বলতে পারি সব কথা।

ঠিক আছে, না হয় বলবো নাহ! তুমি অন্য কোন অফিসে চলে যাও। তবুও এতো দূরে যেও না প্লিজ। আমি খুব একা, নিপা!

নিরুত্তাপ হয়ে শুনছিলাম ওর আকুতি। ওর বুকের ভেতর থেকে বের হওয়া দীর্ঘদিনের জমে থাকা দুঃখগুলো যেন নিশুতিরাতের নীড় হারানো পাখীর আর্তনাদ হয়ে বাজছিল আমার কানে। নিজেকে শক্ত করে ধরে রাখা কত কষ্ট ছিলো সে শুধু আমিই জানি। সব কথা শেষে শুধু বললাম, তুমি আমাকে মাফ করো, অর্ক। আমার আর ফেরা হবে নাহ কোনদিন। পৃথিবীর অপর প্রান্তে থাকলেও আমি তোমার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হয়েই থাকবো আজীবন।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত