নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ
হুমায়ূন আহমেদ। ফাইল ছবি, সংগৃহীত

আজ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন। ৬১তম জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদ পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘দোয়া করবেন, আমি যেন আমৃত্যু লিখে যেতে পারি।’ তার সেই আশা পূরণ হয়েছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লিখেছেন।

নিউইয়র্কে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি ‘দেয়াল’ উপন্যাস লিখেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। সেই শোক আজো কাটেনি ভক্ত-পাঠকদের হূদয় থেকে।

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ সারাদিন ধরেই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। গতকাল রাত ১২টা ১ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসা দখিন হাওয়ায় কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করেন পরিবারের সদস্যরা। আজ শুক্রবার সকালে নুহাশ পল্লীতে রয়েছে নানা আয়োজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর লেখকের ধানমন্ডির ‘দখিন হাওয়া’ ফ্ল্যাটে কাটা হয় জন্মদিনের কেক। হুমায়ূনকে স্মরণ করে দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে কেক কাটেন লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূনের বইয়ের প্রকাশকরা।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, জন্মদিন পালন উপলক্ষ্যে নুহাশ পল্লীর উদ্যোগে আজ সকালে কেক কাটা এবং এর আগে রাতে সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন করে নুহাশ পল্লীকে আলোকিত করা হয়। এছাড়া আজ ভোরে শাওন তার দুই ছেলেকে নিয়ে চলে গেছেন হুমায়ূনের স্মৃতিধন্য গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নূহাশ পল্লীতে। সেখানে লেখকের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারা। মিলাদ মাহফিলের পাশাপাশি এতিমদের মধ্যে খাদ্যবিতরণ করা হবে।

এদিকে জন্মদিনের আয়োজন প্রসঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই আহসান হাবীব বলেন, প্রতি বছরই পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা ভাইবোনরা নুহাশ পল্লীতে যাই। সেখানে সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি জিয়ারত করি। তবে করোনার এবার আর নুহাশ পল্লীতে যাওয়া হচ্ছে না।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে।

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাস ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়।

হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত