ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬
৩২ °সে


‘বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা’

ছায়ানটে দুই দিনের রবীন্দ্র উৎসব শুরু
‘বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা’
ছায়ানট মিলনায়তনে রবীন্দ্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। ছবি: আব্দুল গনি

রচনায় তিনি রেখে গেছেন স্বপ্ন-কল্পনা-প্রেম। প্রাণে দিয়ে গেছেন সুর ও আলোর স্পর্শ আর শুভচেতনা। তাঁর গান গেয়ে শিল্পী সেই স্বপ্ন, সেই সুর, সেই শুভচেতনার বাণী পৌঁছে দিতে চাইলেন দর্শক-শ্রোতার হূদয়ে। গতকাল শুক্রবার দুদিনের রবীন্দ্র উত্সবের উদ্বোধনী দিনে ছায়ানটের শিল্পীরা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নানা মাত্রার গান গেয়ে শোনালেন। ছিল প্রকৃতি, প্রেম ও পূজা পর্বের গান।

অনুষ্ঠান শুরু হয় সম্মেলক কণ্ঠে ‘বাজাও তুমি, কবি’ এ গান দিয়ে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি আবুল হাসনাত। রবীন্দ্রনাথের রচনা কীভাবে আজও বাঙালির মনন, প্রেরণার পথপ্রদর্শক হয়ে রয়েছে সে কথা তুলে ধরেন তিনি। এরপর ছিল ছায়ানটের বিশেষ গীতিনৃত্যালেখ্য ‘অনন্ত আনন্দধারা’। এরপরে ছিল একক কণ্ঠে গান। পাশাপাশি কবিতা পাঠ ও সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশনা।

গীতিনৃত্যালেখ্যর পরে ‘বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা’ গান দিয়ে শুরু হয় পরবর্তী পর্ব। একক কণ্ঠে অভয়া দত্ত শোনান ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’, তাহমিদ ওয়াসিম ঋভু ‘কী গাব আমি, কী শুনাব’, ফারজানা আক্তার পপি ‘আজি এ আনন্দসন্ধ্যা’, পার্থ প্রতীম রায় ‘সদা থাকো আনন্দে’, সেঁজুতি বড়ুয়া ‘এত আনন্দধ্বনি’, সত্যম কুমার দেবনাথ ‘হূদয়বাসনা পূর্ণ হল’, সেমন্তী মঞ্জরী ‘প্রাণে খুশির তুফান’, মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য ‘গায়ে আমার পুলক লাগে’, তানিয়া মান্নান ‘মেঘের পরে মেঘ’, খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ম ‘এসো হে সজল ঘন’, অভিক দেব ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না ‘আজি শ্রাবণঘনগহন মোহে’, কাঞ্চন মোস্তফা ‘রিমিকি ঝিমিকি ঝরে’, স্বাতী বিশ্বাস ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার’, শুক্লা পাল সেতু ‘মধু গন্ধে ভরা’, সুশান্ত রায় ‘চিরবন্ধু চিরনির্ভর চিরশান্তি’ ও এটিএম জাহাঙ্গীর ‘বর্ষণ মন্দ্রিত’ গান পরিবেশন করেন। এছাড়াও সম্মিলিত কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘পথিক মেঘের দল’, ‘শ্রাবণের গগনের গায়’। রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, ডালিয়া আহমেদ প্রমুখ।

মহাকালের তিন যুগপূর্তি : মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের তিন যুগ পূর্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ছিল আনন্দ আয়োজন। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্মাননা প্রদান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার সঙ্গে ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নির্মমতার ওপর নির্মিত নাটকের মঞ্চায়ন। মঞ্চস্থ হয়ে নাট্যদলটির নতুন প্রযোজনা মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’। আজ শনিবারও সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে নাটকটি।

আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়েই চলছে ঢাবি প্রশাসন

৩৬ বছরের পথচলায় হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীদের স্মরণ করে শুরু হয় দুই দিনের এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদ এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল নাট্যজন কামাল বায়েজীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন তিন যুগ পূর্তি উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক কবীর আহামেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মহাতালের সভাপতি মীর জাহিদ হাসান। সভাপতিত্ব করেন নাট্যদলটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

আলোচনা শেষে মঞ্চস্থ হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামান রচিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশিক রহমান লিয়নের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় নাটক ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’।

ইত্তেফাক/কেকে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন