ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৫ °সে


চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরার উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরার উদ্যোগ
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর —ইত্তেফাক

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও এর সেবা কার্যক্রমের ক্রমাগত উন্নতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের গত কয়েক বছরের সাফল্য এবং আগামী কর্মসূচিসমূহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্র্যান্ডিং করার সব প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি দ্বিগুণ করা সহজে সম্ভব। এজন্য অনেক অজানা তথ্যসম্বলিত দিকগুলো বন্দরের ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

জানা যায়, গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এগিয়ে যাচ্ছে। বন্দরের গত ২/৩ বছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের অন্যতম প্রধান ইকুইপমেন্ট কি গ্যান্ট্রিক্রেনের সংযোজনের ফলে হ্যান্ডলিং ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কাজ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হলে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে। এতে বহির্নোঙরে আমদানি পণ্যবাহী জাহাজের অপেক্ষমাণ তালিকা ছোটো হয়ে আসবে, বাড়বে রপ্তানি আয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রকাশনা ‘বন্দর বার্তা’ এর বাংলা ও ইংরেজি দুই ভার্শনের নিয়মিত প্রকাশের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী শিল্পপতির নিকট পৌঁছে দেবে। বিদেশি দূতাবাস, বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, স্থানীয় বিদেশি চেম্বার, দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল, শিল্প গ্রুপসহ বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব স্তরে ‘বন্দর বার্তা’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের দেওয়া তথ্যে বলা হয়, বর্তমানে ৮ লাখ কন্টেইনারের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি আয় প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার হয়ে থাকে; কিন্তু আমদানি পণ্য নিয়ে আসা আরো প্রায় ৭ লাখ কন্টেইনার সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় ফেরত যায়। উক্ত ফেরত যাওয়া কন্টেইনারের মাধ্যমে আরো সমপরিমাণ রপ্তানি আয় করা সম্ভব। মূলত রপ্তানি পণ্য না থাকায় ঐ কন্টেইনার খালি পাঠাতে হয়। আবার খালি কন্টেইনার নিয়মিত জাহাজগুলো না নেওয়ায় বন্দরের জেটিতে জটের সৃষ্টি করে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। এ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিদেশি ব্যাংকসমূহের ঋণ চাইছে। এ অবস্থায় বিদেশি ব্যাংকসমূহ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের রপ্তানি সক্ষমতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা, চলমান প্রকল্প এবং বে-টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অবহিত করার লক্ষ্যে বন্দরের ব্র্যান্ডিং জরুরি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন