ঢাকা শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


পেঁয়াজের দাম কমবে কবে?

পেঁয়াজের দাম কমবে কবে?
ছবি সংগৃহীত

পেঁয়াজের দাম কমবে কবে? কিংবা আদৌ কি আমরা আবার ২৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ খেতে পারব? এ প্রশ্ন এখন ভোক্তাদের। ২৫ থেকে ৪০ টাকার কথা বলা হচ্ছে কারণ, সরকারের বিপনন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে গত বছর এই সময়ে দেশের বাজারে এই দামেই প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হয়েছে। এই হিসেবে গত এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪০০ শতাংশের বেশী। তাই হতাশ ক্রেতাদের এখন একটাই প্রশ্ন ‘পেঁয়াজের দাম কমবে কবে?’

উল্লেখ্য, বর্তমানে খুচরাবাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ২’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ থেকে ২৬ লক্ষ টন । আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উত্পাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০লক্ষ টন। এরমধ্যে ৩০ শতাংশ সংগ্রহকালীন ও সংরক্ষণকালীন ক্ষতি বাদ দিলে এর পরিমান দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩০ লক্ষ টন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ১০ দশমিক ৯১ লক্ষ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এই হিসেবে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আর সেপ্টম্বর থেকে নভেম্বর এই তিন মাস যেহেতু দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকে তাই এ সময় ১ লক্ষ টনের বেশী পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে যেখানে ২ লক্ষ টনেরও বেশী পেঁয়াজের চাহিদা, সেখানে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুই মাসে মোট পেঁয়াজের আমদানি হয়েছে মাত্র ৪৯ হাজার টন। আর ঢাকা কাস্টমস ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি নভেম্বরের এখন পর্যন্ত বিমানে করে মাত্র ২৬০ টন পেঁয়াজ এসেছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে এসেছে ৭৮০ টন পেঁয়াজ। তাহলে এই পরিমান পেঁয়াজ দিয়ে কিভাবে বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। সেখানে প্রতি মাসে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২ লক্ষ টনের বেশী।

গত রবিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, ভারত হঠাত্ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় আমাদের বাজারে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পেঁয়াজের সংকট মোকাবিলায় বড় বড় ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি করতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তারা মিশর-তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ আসতে এক মাস সময় লাগবে, প্রথম অবস্থায় আমরা তা বুঝতে পারিনি। আশা করছি, আগামি ১০ দিনের মধ্যে জাহাজে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক নারায়ন চন্দ্র রায় ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে দেশে পেঁয়াজ সংকটের একটাই কারণ, চাহিদামতো পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। সরবরাহ বাড়লে দাম ঠিকই কমে আসবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বরের শুরুতে দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। এবার বন্যা ও বৃষ্টির কারণে শুরুর দিকের পেঁয়াজের আবাদ নষ্ট হওয়ায় কয়েকদিন দেরী হতে পারে। তবে ইতোমধ্যেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। আশা করছি, ডিসেম্বরে দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হলেই দাম কমে আসবে।

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন