ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
২৪ °সে

সরকারি তহবিলের অর্ধেক বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখতে হবে

সরকারি তহবিলের অর্ধেক বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখতে হবে
ছবি: সংগৃহীত।

ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিট এবং সরল সুদ কার্যকর করার নিমিত্তে সরকারি তহবিলের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে আমানত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকে ৬ শতাংশ হারে সরকারি তহবিল আমানত হিসাবে রাখা যাবে। বাকি ৫০ শতাংশ সরকারি ব্যাংকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে আমানত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরল সুদ ও সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নের বিষয়টি ঝুলে গেছে এবং বারবার ডেটলাইন পরিবর্তন করায় সংশয় রয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, সুদের হার কমাতে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া সুবিধার অন্যতম এটি। যদিও একগুচ্ছ সুবিধা নিয়েও কথা রাখেনি ব্যাংকগুলো। বরং একের পর এক অজুহাত তুলে কালক্ষেপণ করছে। কিন্তু সুবিধাগুলো ঠিকই ভোগ করে চলেছে।

গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এডিপি এবং পরিচালন বাজেটের আওতায় প্রাপ্ত অর্থ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সরকার মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবসায় নিয়োজিত বেসরকারি ব্যাংক অথবা অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। সে পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে উল্লেখিত উত্সসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদহারে রাষ্ট্রমালিকাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকে এবং মোট উদ্বৃত্ত অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদহারে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রাখা যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানসমূহের ভবিষ্যত্ তহবিলের অর্থ, পেনশন তহবিলের অর্থ এবং এন্ডাউমেন্ট ফান্ডের অর্থ এর আওতা বহির্ভূত থাকবে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেওয়ার পর আমানতকারীদের সবাই যাতে সরকারি ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে না পড়েন, তা ঠেকাতে বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটে মুনাফা বেশি থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যাংকে ডিপোজিটের ক্ষেত্রে যদি সুদ হার ৬ শতাংশ করে দেওয়া হয়, তাহলে সবাই সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখবে। তাই সরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটের সুদ হার হবে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটের ক্ষেত্রে সুদ হার হবে ৬ শতাংশ। দুই জায়গায় ৬ শতাংশ হলে, বিভিন্ন কারণে সবাই চলে যাবে সরকারি ব্যাংকে। এজন্য আমরা এক্ষেত্রে আধা শতাংশ পার্থক্য রাখছি।

এর আগে ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল সরকারের নিজস্ব অর্থের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখার বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ঐ প্রজ্ঞাপনে আমানত রাখার ওপর সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এমনকি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে সুদের পার্থক্যও রাখা হয়নি। নতুন প্রজ্ঞাপনে এগুলো স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ব্যাংক ঋণে সুদ হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতে সুদ হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন