ব্যাংকের বেতন কমানোর সিদ্ধান্তে পিছু হটলো বিএবি

* ক্ষুব্ধ ব্যাংক কর্মকর্তারা  ** এমন কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি: বিএবি
ব্যাংকের বেতন কমানোর সিদ্ধান্তে পিছু হটলো বিএবি
বাংলাদেশে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)

আগামী দেড় বছরের জন্য ১৫ শতাংশ বেতন-ভাতা কমাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। এছাড়া ব্যাংকের খরচ কমানোর জন্য ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন খরচ কমানোর কথাও রয়েছে। বিএবি’র এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত হলে ব্যাংকাররা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। তাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়বে। তবে বিএবি বলছে বেতন কমানোর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আর এ ধরণের নির্দেশনা দেওয়ার অধিকারও বিএবির নেই।

এ বিষয়ে বিএবি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আমরা বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা একসঙ্গে বসেছিলাম। একটি ইনফর্মাল আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করা যায় তার একটা সম্ভাব্য উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে এ চিঠি বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কারণ, ব্যাংক কিভাবে চলবে সেটা ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। তাদের বিনিয়োগ ও স্যালারির ধরণও ভিন্ন। ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে। এক্ষেত্রে বিএবি কোন হস্তক্ষেপ করবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি সব ব্যাংকের উপর বিএবির নির্দেশনা চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ হওয়ায় সে অবস্থা থেকে বিএবি পিছু হটেছে। মূলত, বিএবি এমন নির্দেশনা দিতে পারে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিএবি এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছে। নির্দেশনা দেওয়ার জন্য একটা চিঠিও তৈরি করেছিল বিএবি। তবে তাতে কোন মাস্টহেড বা সাক্ষর ছিল না।

বিএবির ওই চিঠিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব গ্রেডের যেসব কর্মকর্তা ও নির্বাহীর মাসিক গ্রস বেতন ৪০ হাজার টাকার বেশি তাদের সবার ১৫ শতাংশ কমাতে হবে। আগামী দেড় বছর পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট ও ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়া যাবে না। ব্যাংকের চলমান নিয়োগসহ সব নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। এখন থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকা এবং টেলিভিশনে সব ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখতে হবে। নতুন শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা এবং সাব-ব্রাঞ্চ খোলা যাবে না। সব ধরনের স্থায়ী সম্পদ কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

চিঠিতে আরও লেখা হয়, সব বিদেশি ট্যুর বন্ধ রাখতে হবে। সব ধরনের সিএসআর, ডোনেশন, চ্যারিটি বন্ধ রাখতে হবে। সব গ্রাহক 'গেট টু গেদার' বন্ধ রাখতে হবে। অফিসার ও এক্সিকিউটিভ 'গেট টু গেদার' ও ম্যানেজার কনফারেন্স বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে করতে হবে। বড় ধরনের ব্যয় যেমন আইটি রিলেটেড, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার কেনা আপাতত সীমিত পর্যায়ে রাখা। অন্য সব ব্যয় সীমিত পর্যায়ে রাখতে হবে। কর্মী ছাঁটাই না করে ব্যাংক সচল রাখার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাংক খাতের ১৩টি ঝুঁকির কথা চিঠি প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- ব্যাংকের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সুদের হার কমেছে। আদায় প্রায় শূন্যে নেমেছে। আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক বাণিজ্য কমার কারণে আনুষঙ্গিক আয় একেবারে কমেছে। বৈদেশিক রেমিট্যান্স কমেছে। ক্রেডিট কার্ডে আদায় ও আয় কমেছে। এপ্রিল ও মে মাসের সুদ এক বছরের জন্য বøক করে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে কার্যরত ৫৯টি ব্যাংকে বর্তমানে জনবল রয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ৪৩০ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকে আছেন এক লাখ ৯ হাজার ১২৭ জন। বিদেশি ব্যাংকে তিন হাজার ৮৫৮ জন। আর সরকারি ব্যাংকে ৬৫ হাজার ৪৪৫ জন।

ইত্তেফাক/আরএ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
x