বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

প্রণোদনার টাকা পাচ্ছে কারা!

প্রকৃত ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা হতাশ, শ্রমিক-কর্মচারীর রোষানলে মালিকরা, আলোচনায় নেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা, ব্যাংক সুবিধা নিয়েও চুপচাপ বসে আছে
প্রণোদনার টাকা পাচ্ছে কারা!
প্রণোদনা। প্রতীকী ছবি- ইত্তেফাক

করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে গতি আনতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নেও বিলম্ব করছে ব্যাংকগুলো। যেমনটি করেছিল সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে। সরকারের যে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই যেন ব্যাংকগুলো ঢিমেতেতালে নীতি অনুসরণ করছে। গত ১৮ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত প্রণোদনার অর্থ ছাড়করণের নির্দেশ দিয়েছিল ব্যাংকগুলোকে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সহায়ক আরো কিছু পদক্ষেপ নিতেও বলেছিল।

এর মধ্যে রয়েছে—ঋণ আবেদনকারীদের সহায়তা করতে প্রতিটি শাখায় আবশ্যিকভাবে একটি স্বতন্ত্র হেল্প ডেস্ক গঠন করতে হবে এবং সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ সংক্রান্ত তথ্যাদি প্রদর্শন করতে হবে। প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

এতে আরো বলা হয়, দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ও অনস্বীকার্য। ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতীত দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো এবং জিডিপির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। তাই ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অধিকতর উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে যাতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, কার্যত, ব্যাংকগুলো এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। শুধু তৈরি পোশাক খাত তথা রফতানি খাতে কিছু প্রণোদনা দিলেও অন্যান্য খাতে এখনো প্রণোদনার অর্থ ছাড় হয়নি। বরং ব্যাংক কর্মকর্তারা নিরুত্সাহিত করছেন। কোনো কোনো ব্যাংক প্রণোদনা উপলক্ষ্যে প্রাপ্ত সুবিধাদি দিয়ে নিজেদের তারল্য প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখেছে। কোনো কোনো ব্যাংক পরিচালকদের পছন্দের ব্যক্তিদের জন্যই প্রণোদনা ছাড় করে ক্ষান্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাংকারও বলেছেন, ব্যাংকগুলো প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে নিরুত্সাহিত বোধ করছে।

এদিকে, প্রণোদনার অর্থ না পেয়ে বিপাকে পড়েছে উদ্যোক্তারা। কলকারখানার মালিক, ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মীদের চাপে রয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রণোদনার অর্থ হাতে পেয়ে বেতনভাতা দেবে—এই প্রত্যাশায় বসে আছে। কিন্তু তারা প্রণোদনার টাকা পাচ্ছে না। কবে পাবে তাও জানে না। ফলে, কোনো কোনো উদ্যোক্তা বলছেন, আসলে প্রণোদনার টাকা কারা পাচ্ছে? অথচ কর্মীদের মধ্যে এমন চাউর হয়েছে যে, মালিকরা সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেতন দিচ্ছেন না। বিষয়টি মালিক-শ্রমিক সম্পর্কেও ফাটল সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, সরকারের অর্জনকে ম্লান করতেই কোনো কোনো গোষ্ঠী এধরনের খামখেয়ালিপনা করছে। তারা চাচ্ছে না দেশের অর্থনীতিতে গতি আসুক। নইলে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েও তারা কেন বাস্তবায়ন করছে না।

প্রসঙ্গত, করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিতকরণের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্যাকেজের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ তহবিল, কৃষি ভর্তুকি, বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদের ওপর ভর্তুকিসহ ইত্যাদি খাতে সরকারের রাজস্ব খাত হতে অর্থায়ন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ যথাক্রমে ২০ হাজার কোটি ও ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল ব্যবহূত হবে, যার বিপরীতে সরকার কর্তৃক সুদ ভর্তুকি প্রদান করা হবে।

এছাড়া, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের তারল্যের অবস্থা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে উল্লিখিত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট, নিম্ন-আয়ের পেশাজীবী কৃষক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষি খাতসহ বিভিন্ন খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়েছে; যা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সহায়ক।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত