বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্য এ বাজেট :অর্থমন্ত্রী

জেনেশুনে কঠিনকে ভালোবেসেছি
যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্য এ বাজেট :অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক, শ্রমিক, মজুর, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, বেদে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাওয়ালাসহ সব পেশার মানুষ, পান দোকান, চা-দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী, সব শ্রেণি ও গৃ-গোষ্ঠীর মানুষ, যারা কষ্টে আছেন তাদের সবাইর জন্য এ বাজেট।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ও সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত বাজেট ঘাটতিও। কিন্তু, সত্য যে বড় কঠিন, তাই সব জেনেশুনে আমরা এই কঠিনকেই ভালোবেসেছি। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়, কারণ এটি আকারে বড়। কিন্তু আমরা বাজেট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

বক্তব্যের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এ ক্রান্তিলগ্নে প্রাধিকার পেয়েছে দেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে তাদের জন্য লক্ষাধিক কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এবারের বাজেটে সংগতকারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতকে। স্বাস্থ্য খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে এখনো আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই কৃষি খাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক ক্ষেত্র। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্যের যোগান দিতেও সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কঠোর পরিশ্রমী আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতিসম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে পিছনে ফেলে বিশ্বে চাল উত্পাদনে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছি। এখানে উল্লেখ্য যে, গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্যশস্য উত্পাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ, যা বিশ্বে একটি রেকর্ড।

এবারের বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমরা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম আমাদের প্রকৃত অর্জন প্রতি বছরই তার চেয়ে বেশি ছিল। বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ, যা বিশ্বে সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না ১৭৭ শতাংশ এবং ভারত ১১৭ শতাংশ। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিন গুণ।

দ্যা ইকোনমিস্ট ২ মে গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশ রয়েছে ৯ম শক্তিশালী অবস্থানে। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আমরা বাজেট ২০২০-২১ উপস্থাপন করেছি, এর মাত্র সাত দিনের মাথায় গত ১৮ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আমাদের লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ শতাংশের একেবারে কাছাকাছি। এতেই প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। এই বাজেটটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের সব মানুষ, যারা আমাদের প্রাণশক্তি।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত