বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অগ্রণী ব্যাংক

ডিজিএমের সই জাল, শোকজ প্রদান, তদন্ত রিপোর্টে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  দৈনন্দিন কারিগরি ও গ্রাহকসেবা বিঘ্ন
সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অগ্রণী ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যাংকিং সফটওয়্যার নিয়ে জালিয়াতির কারণে ব্যাংকের দৈনন্দিন কারিগরি ও গ্রাহকসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ঘটনা জানাজানির পর তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শোকজও করা হয়েছে।

ব্যাংকিং সূত্র জানায়, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পের নিরিখে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক উদ্যোগ নেয়। একই উদ্যোগ অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষেও নেওয়া হয়। কিন্তু কারসাজি ও যোগসাজসের মাধ্যমে এই আধুনিকায়ন উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। বরং ঝুঁকিতে পড়ে যায় ব্যাংক নিজেই। ভোগান্তিতে পড়ে যায় লাখ লাখ গ্রাহক।

অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সত্যতা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জড়িত কোম্পানিকে শোকজ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, ২০০৯ সালে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার ব্যবহার বাড়াতে অগ্রণী ব্যাংক সফটওয়্যার কোম্পানি টেমিনস হতে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ক্রয় করে। টেমিনসের স্থানীয় প্রতিনিধি ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের মাধ্যমে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ১০ বছর মেয়াদে মোট ১৪ কোটি টাকায় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড। চুক্তি মোতাবেক প্রায় ১ হাজার ৫৫০ ব্যবহারিক লাইসেন্স দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীকালে ২০১৪ সাল নাগাদ তা ৫ হাজার ১৫০ ব্যবহারিক লাইসেন্সে উন্নীত হয়। কিন্তু ফ্লোরা টেলিকম ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অগোচরে আনুপাতিক হারে হিসাব না করে সমুদয় লাইসেন্স ২০১৮ সালে নবায়ন করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ সময় মূল সফটওয়্যার কোম্পানি টেমিনসের কাছে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি গোপন রাখে। একই সঙ্গে ফ্লোরা টেলিকম সফটওয়্যারের পুরোনো ভার্সন (যা টেমিনস কর্তৃক সমর্থিত ছিল না) বলবত্ রাখে। অত্যাবশকীয় সফটওয়ার ভার্সন আপগ্রেডের বিষয়টি ব্যাংকের কাছেও গোপন রাখে। যার জন্য অর্থনৈতিক ঝুঁকিসহ ব্যাংকের বিবিধ সেবা ঝুঁকিতে পড়ে। এমনকি ফ্লোরা টেলিকম কাজটি করতে গিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের একজন উপমহাব্যবস্থাপকের স্বাক্ষরও জাল করে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর টেমিনস তাদের সেবা মার্চ ২০২০ সাল থেকে বন্ধ করে দেয়। এ পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০১৯ সালে আপগ্রেড ভার্সন দিতে সম্মতি জানিয়ে আর্থিক বাজেট দিলে তা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করে। তবে পরিচালনা পর্ষদ তা বাতিল করে দেয়।

পরবর্তীকালে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে পিপিআর ২০১৬ অনুযায়ী ইজিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলে সেখানেও অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১০০ কোটি টাকা বেশি ধার্য করায় দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। দরপত্র বাতিল হওয়ার পর ফ্লোরা টেলিকম অগ্রণী ব্যাংকের নামে জাল নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড তৈরি করে। এতে ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক শাহিনুর বেগমের স্বাক্ষর জাল করে। যা পরবর্তীকালে টেমিনস বিষয়টি জানতে পেরে অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে যাচাই করে এবং সত্যতা নিশ্চিত হয়। তখনি অগ্রণী ব্যাংক ফ্লোরা টেলিকমকে শোকজ নোটিশ পাঠায়। ব্যাংক একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। ব্যাংকের কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টেমিনসের পক্ষ থেকেও ফ্লোরা টেলিকমকে পরিস্থিতি সমাধানের জন্য ২০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। তাতে কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে, আজ ৩০ শে জুন অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে টেমিনসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আবার টেমিনস গত ২৬ জুন ২০২০ তারিখে ফ্লোরা টেলিকমের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাতিল করে দেয়। এ অবস্থায় পহেলা জুলাই থেকে অগ্রণী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম কীভাবে চলবে, তা কেউ বলতে পারছে না। ব্যাংক সূত্রমতে, টেমিনসের সঙ্গে ফ্লোরার চুক্তিটি বাতিল হওয়ার ফলে নতুন করে ফ্লোরা যে চুক্তি করবে, সেটিও পারবে না। কারণ, তার আইনগত বৈধতা থাকছে না। এ অবস্থায় অগ্রণী ব্যাংক অর্থনৈতিক ও কারিগরি ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত