তবে কি বড়রাই পাচ্ছে প্রণোদনার অর্থ!

১২০০ কোটি টাকা যাচ্ছে একটি গ্রুপের কাছে ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের গুরুত্ব না দিলে অর্থনীতির চাকা ঘুরবে না ক্ষতিগ্রস্ত সবাই, সবার জন্যই সহায়তা দরকার
তবে কি বড়রাই পাচ্ছে প্রণোদনার অর্থ!
প্রণোদনার অর্থ পেতে ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের তুলনায় বড়রাই প্রাধান্য পাচ্ছে। ছবি: প্রতীকী

প্রণোদনার অর্থ পেতে ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের তুলনায় বড়রাই প্রাধান্য পাচ্ছে। বড় শিল্পগ্রুপগুলোর কর্মী বাহিনী, অর্থনীতিতে তাদের অবদান যেমন রয়েছে, তেমনি ক্ষুদ্র মাঝারিদেরও অবদান কম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারিরা টিকে না থাকলে বড়দেরও টিকে থাকা সম্ভব হবে না। প্রসঙ্গত, করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সরকার ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি অংকের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। খাতভিত্তিক বড়, ছোট, মাঝারি সবার জন্যই ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজ দেয়া হয় এবং এসব প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিরও ব্যবস্থা নেয়া হয়। ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দুর করতে বেশকিছু সুবিধাও প্রদান করা হয়। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সে উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ অর্থ ‘ভাগাভাগি’ হচ্ছে এমন ভাবে যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের গুরুত্বই থাকছে না।

ব্যাংকিং সূত্রমতে, প্রভাবশালীরাই নিয়ে নিচ্ছে প্রণোদনার সিংহভাগ অর্থ। বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলোর স্বার্থ দেখতে তত্পর রয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থেকে শুরু করে সরকারের কতিপয় আমলাও। অবসরে যাওয়া কোন কোন সরকারি কর্মকর্তা আবার এসব বড় শিল্পগ্রুপে উচ্চ পদে আসীন হয়ে তাদের পক্ষে লবিং করে থাকেন। ফলে, প্রণোদনার অর্থই শুধু নয়, ঋণসহায়তা প্রাপ্তিতেও সমস্যা হয় না।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি একটি বড় শিল্পগ্রুপকে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১২শ’ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। এ নিয়ে যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঋণসহায়তা অনুমোদন করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ৪টি ব্যাংক মিলে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঐ ব্যবসায়ী গ্রুপকে ১২শ’ কোটি টাকা ঋণসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা গ্রুপটির সকল দায়দেনা অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবিএম রুহুল আজাদ। সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংককে নীতি সহায়তা প্রদানেরও অনুরোধ করা হয়েছিল। ১২শ’ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণের মধ্যে বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ৫শ’ কোটি টাকা গত ৩০জুলাইর মধ্যে প্রদানেরও নির্দেশনা দেয়া হয়

আরও পড়ুন: লেবাননে জোড়া বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের আশঙ্কা

সূত্রমতে, একদিকে ব্যাংকগুলো সুবিধা নিয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে, অন্যদিকে বড় গ্রুপগুলো প্রভাবখাটিয়ে ঋণ সহায়তা নিচ্ছে। কিন্তু ক্ষুদ্র—মাঝারিরা সুবিধার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। প্রণোদনা সুবিধার আরেকটি দুর্বল দিক হচ্ছে- খেলাপিরা এই সুবিধা পাবে না। যারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বলেই ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি। এখন তারা যদি প্রণোদনা সুবিধার অর্থ না পায় তাহলে ব্যবসা দাঁড় করাবে কিভাবে— এমন প্রশ্ন রেখেছে সূত্রগুলো?

ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের প্রণোদনা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ইত্তেফাককে বলেন, জাতীয় অর্থনীতির জন্য ছোটদের ঋণ দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক মাঝে মাঝে ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়। কতটুকু ছোটদের দিতে হবে সে বিষয়ে নিয়মও করে দেয়। তবে সে নিয়ম মানার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন চাপ থাকে না। তাই ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রেশারে রাখতে হবে।

অন্যদিকে ছোট ঋণে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বেশি হয়। বেসরকারি ব্যাংকগুলো সব সময় মুনাফা চায়। এজন্য ছোটদের জন্য গঠিত হওয়া ব্র্যাংক ব্যাংকও এখন বড় ঋণের দিকে ঝুঁকছে। তাই এসব ব্যাংক যেন মুনাফার দিকে না ছুটে অর্থনীতির স্বার্থে ছোট ও মাঝারিদেরও ঋণ দেয় সেজন্য তাদেরকে চাপে রাখতে হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত