করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স কমতে পারে ২৭ ভাগের বেশি :এডিবি

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স কমতে পারে ২৭ ভাগের বেশি :এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারির প্রভাবে রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বলছে, যে দেশগুলোর রেমিট্যান্স কমতে পারে তার মধ্যে শীর্ষ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে এশিয়ার দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বড় ধাক্কা খেতে পারে। প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের তুলনায় চলতি বছর কোন দেশের কত রেমিট্যান্স আয় কমতে পারে, সেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এডিবির মতে, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় কমতে পারে নেপালের। দেশটির রেমিট্যান্স প্রায় ২৯ শতাংশ কমে যেতে পারে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাজিকিস্তানের কমতে পারে প্রায় ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশের কমতে পারে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যদি সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হয় সেক্ষেত্রে এই আশঙ্কা করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ সারা বিশ্বে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানে এর প্রভাব ব্যাপক। এতে প্রবাসী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এডিবির এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে দেওয়া হলো যখন দেশে রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও শুধু জুলাই মাসে ২৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

এডিবির প্রতিবেদনে পুরো বছরে গড় রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী করোনায় ২০২০ সালে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স হারাবে বাংলাদেশ। প্রবাসী আয়ের প্রবাহের গতিধারা কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে এডিবি এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। করোনা সংকট যদি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকে এবং তা যদি প্রায় এক বছর টিকে থাকে, তাহলে এশীয়ার দেশগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহে কি ধরনের প্রভাব পড়বে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনার কারণে ২০২০ সালে সারা বিশ্ব প্রায় ১০ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স হারাতে পারে।

করোনা না থাকলে যত পরিমাণে রেমিট্যান্স প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এর চেয়ে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ কম আসবে রেমিট্যান্স। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো। এশিয়ার দেশগুলোর রেমিট্যান্স কমতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

করোনার প্রভাবে রেমিট্যান্সে বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে এডিবি। বিশেষ করে ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে এডিবি। এছাড়া রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত