মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৬৪ ডলার

মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৬৪ ডলার
ফাইল ছবি

বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ২৪ শতাংশ। স্থিরমূল্যে এই জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে হাজার ৬৪ ডলারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাবে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের আগে বিবিএসের এই হিসাব দেওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে সেমাবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল দশমিক শতাংশ। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও দশমিক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। করোনা অতিমারির প্রভাবে সারা বিশ্ব যখন মন্দায় পড়েছে, সেই সময়ে ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে অর্থনীতিবিদেরা সমালোচনাও করেন।

মহামারির ধাক্কায় বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেক কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দীর্ঘ ছুটি লকডাউনের প্রভাবে এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়েছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশে নেমে আসতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও এর প্রভাব থাকবে। বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে দশমিক শতাংশ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই প্রবৃদ্ধি না হয়ে বরং সংকোচন হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থ। বিশ্বব্যাংক বলেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শতাংশে নেমে যেতে পারে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, দীর্ঘ মেয়াদে লকডাউন অর্থনৈতিক স্থবিরতায় দেশে বেসরকারি ভোগব্যয় ব্যাপক হারে কমে গেছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র মাঝারি মানের ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

আরা পড়ুন:নিজের প্রেম গুঞ্জন শুনতে ভালোই লাগে : ক্যাটরিনা

দেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগও (সিপিডি) বলেছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশের মতো হতে পারে। এর পরেও সরকার দশমিক শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে স্থিরমূল্যে ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা জিডিপির মধ্যে সেবা খাত থেকে এসেছে ৫৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। শিল্প খাত থেকে এসেছে ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ বা লাখ ৩১ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। আর কৃষি খাত থেকে এসেছে লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত