৯৮ হাজার ৪০০ কোম্পানির টিআইএন নেই

করের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে এনবিআর
৯৮ হাজার ৪০০ কোম্পানির টিআইএন নেই
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিবন্ধন নিয়ে কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই, এমন ৯৮ হাজার ৪০০টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

টিআইএন না থাকায় কোম্পানিগুলো করের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে। অথচ কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন নিতে হয় এবং বছর বছর আয়কর বিবরণী জমা দিতে হয়।

সম্প্রতি এনবিআর এ ধরনের কোম্পানিকে চিহ্নিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। ঐ টাস্কফোর্স গত প্রায় এক মাস ধরে টিআইএনের বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখন এসব কোম্পানির নাম-ঠিকানাসহ সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলগুলোতে তা পাঠানো হবে। এরপর কর অঞ্চলগুলো বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

টাস্কফোর্সের একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের (আরজেএসসি) কার্যালয় থেকে তথ্য নিয়ে টিআইএনের বাইরে থাকা ৯৮ হাজার ৪০০ কোম্পানির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন এসব তথ্য স্ব স্ব কর অঞ্চলে পাঠানো হবে। কর অফিসগুলো এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

আইনানুগ ব্যবস্থা বিষয়ে তিনি জানান, বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও টিআইএন না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তবে আমাদের উদ্দেশ্য হলো তাদের টিআইএন নেওয়া নিশ্চিত করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনবিআরের আরেক জন সিনিয়র কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, টিআইএন না নেওয়ার পর কোম্পানিগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে করের দাবিনামা জারি করতে হয়। কিন্তু তাতেই করের টাকা চলে আসে না। কেননা এর পরও অনেক কাজ ও ধাপ পার হতে হয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তা কঠিন। কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই করে তা করা যায়। এত বিশালসংখ্যক কোম্পানির ক্ষেত্রে তা পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব। এজন্য এসব ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে হলেও আমরা চাই তারা করের আওতায় আসুক। এজন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিআইএন ইস্যু করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, চিহ্নিত হওয়া ৯৮ হাজার ৪০০ কোম্পানির মধ্যে সবগুলোই বর্তমানে কার্যক্রমের মধ্যে নেই। প্রকৃত অর্থে কত প্রতিষ্ঠান এখন কার্যক্রমে আছে এই তথ্য এনবিআরের কাছে নেই। ঐ কর্মকর্তা জানান, অবসায়ন কিংবা বন্ধ হওয়া কোম্পানিও এই তালিকায় রয়েছে। তবে এই সংখ্যা খুব বেশি হবে না।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে টিআইএন রয়েছে ৭৫ হাজারের মতো। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল হয় ৩৫ হাজারের মতো। অথচ বর্তমানে আরজেএসসিতে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার।

বর্তমানে কোম্পানি চালু করতে কেবল পরিচালকদের ব্যক্তিগত টিআইএন দিতে হয়। কোম্পানি অনুমোদনের পর টিআইএন নিতে হয়। মূলত অনুমোদনের পর আর টিআইএন নিচ্ছে না কিংবা রিটার্ন জমা দিচ্ছে না।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক সময় অসাধু ব্যক্তিরা নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে নিজেদের হিসাবে প্রচুর লেনদেন দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। এসব কারণে ঋণখেলাপিও বাড়ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানি অবসায়নের প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় অনেকে সেই পথে হাঁটেন না। ফলে চালু কোম্পানি সম্পর্কে সঠিক তথ্যও পাওয়া যায় না। এতে সার্বিকভাবে আর্থিক খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত