‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন ’এ বদলে যাচ্ছে অনেকের জীবন

‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন ’এ বদলে যাচ্ছে অনেকের জীবন
ছবি: সংগৃহীত

‘সহমর্মিতা’র এক অনন্য দৃষ্টান্ত সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন। পথ শিশুদের জীবন মান উন্নয়ন শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এবং রক্ত দান এই চারটি ক্ষেত্রে কাজ করছে ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’।

দুবছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি শিশু তাদের অসুস্থ মায়ের মাথায় পানি দেয়ার একটি ছবি ভাইরাল হয়।সেই ছবির কথা কি মনে পরে? সে ছবি দেখে অনেকেই এই শিশুদের সহযোগিতা করার জন্য যোগাযোগ করেন ছবিটি শেয়ারদানকারি পারভেজ হাসানের সাথে।

পারভেজ হাসান তাদের আর্থিক সহযোগিতা না করে ভবিষ্যতের ভীত স্থাপনে পড়াশুনার আর পরিবারের আয়ের ব্যবস্থার কথা ভাবেন।শিশু আর তাদের মাকে নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র শেয়ার করেন।ভিডিওতে দেখা যায় কিভাবে নদী ভাঙ্গন কবলিত কুড়িগ্রামের এই পরিবারটি ঢাকায় আসে। যা দেখে কুড়িগ্রামের ডিসিসহ অনেকেই তার স্বপ্ন পূরণে একাত্ম হন। আজ সেই শিশুদের গ্রামের বাড়িতে পাকা ঘর, গরু আর মটরবাইকসহ অনেক কিছুই আছে। শিশু দুজন আকলিমা আর ফরিদুর স্কুলে যাচ্ছে।

পারভেজ জানান একটি ছবি দিয়ে ওদের জীবনমান পরিবর্তনই আমাকে সাংগঠনিকভাবে এমন অনেক শিশুর প্রতি কাজ করতে উৎসাহ দেয়। এরআগে আমি সাধ্য অনুযায়ী পথ শিশুদের পড়াশুনা আর খাওয়ার ব্যবস্থা করতাম। আমার নিজের জীবনেও আছে অর্থে অভাবে পড়তে না পারার কষ্ট। আমার কাজের সাথে দেশ বিদেশ থেকে যুক্ত হন অনেক হৃদয়বান মানুষ। ২০১৮ সালের মে মাসে চলতে শুরু করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন পূরণে অবদান রাখার সংগঠন ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’। তাদের মতো অনেক পথ শিশুই আজ স্কুলে যাচ্ছে।

পারভেজ বলেন,আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র যুবসমাজই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে। কারণ তারা বিশ্ব পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। সংগঠনটির মূলমন্ত্রই হচ্ছে শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য-চক্র ভেঙে জাতিকে পুনর্গঠন করা। এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে সমাজের যুবক শ্রেণীর বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। তাই যুবকরাই সহমর্মিতার প্রাণ। যুব শক্তিকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশকে শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূর করাই তাদের লক্ষ্য । আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংগঠনটি বাংলাদেশের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অবৈতনিক ও আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রান্তিক শিশুদেরকে পড়ালেখায় উৎসাহিত করছে সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হাসান।

বর্তমানে দেশে ৩১টিজেলায় সহমর্মিতার দল এবং দেশ ও দেশের বাইরের সহযোগীসহ ২হাজারের বেশি সদস্য আছে।তাদের মধ্যে ৫শতাধিক সদস্য সরাসরি সহমর্র্মিতার হয়ে কাজ করছে। সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন করোনার শুরু থেকেই ৫ হাজারের বেশি পরিবারে খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেয়। নারী ও কন্যাশিশুদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাকে মনেরেখে ঘূর্নিঝড় ‘আম্পান কবলিত মানুষের পাশে থাকে সহমর্মিতা। রান্না করা খাবার সরবরাহসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয় ভুক্তভোগীদের দৌড় গোড়ায়। সহমর্মিতা চায় অসহায় মানুষের প্রতিনিধিত্ব¡ করতে এবং তাদেও দুর্দশাকে বিশ্বেও সামনে তুলে ধরতে। সহমর্মিতা কাজের মাধ্যমে সমাজে এমনকিছু উদাহরণ রাখতে চায়,যাতে এই কাজগুলো মানুষকে আরও মানবিক হতে উত্সাহিত করতে পারে। যেন একটি উন্নত ও মানবিক পৃথিবী আগামীদিনের শিশুরা জন্মগ্রহন করে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত