আগামী বছরও তেলের দাম কম থাকার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে
আগামী বছরও তেলের দাম কম থাকার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
বিশ্বব্যাংক। ফাইল ছবি

করোনা প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ব জুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে যে ধস নেমেছিল সেটি কিছুটা হলেও ফিরতে শুরু করেছে। করোনা শুরুর আগের অবস্থানে ফিরতে আরো এক বছর সময় লেগে যাবে। আর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আগামী বছরও কম থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরও বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানির দর ৪৪ ডলারের (৩ হাজার ৭৪০ টাকা) মধ্যেই থাকবে। এ বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এক পর্যায়ে মার্কিন বাজারে ঋণাত্মক হয়ে যায় তেলের দাম। বর্তমান সময়ে তেলের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসলেও এ বছরের শেষ দিকে গড়ে ৪১ ডলারে (৩ হাজার ৪৮৫ টাকা) স্থির হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে চলাচল সীমিত হয়ে আসা এবং চাহিদা আগের অবস্থায় ফিরে না আসায় দাম তেমন বাড়বে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এপ্রিল ও অক্টোবরে পণ্যবাজারের ওপর এ ধরনের পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট আয়ান কোস উল্লেখ করেছেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে যে প্রভাব দেখা যাচ্ছে সেটি আগে কখনো হয়নি। অবস্থা এমন যে, জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যখন দাম পড়ে যায় তখন নীতি নির্ধারকরা কিছু সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু যখন কোনো পণ্যের দাম দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন নীতি নির্ধারকদের এই সমস্যা সমাধানের টেকসই উপায় খুঁজে বের করতে হয়। সেই সঙ্গে অর্থনীতির সঙ্গে বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হয়। কোভিড-১৯ তেল উত্তোলনকারী দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশগুলোর পুরো অর্থনীতি এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে কৃষি পণ্যের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে সেটি ৬ শতাংশে ফিরে এসেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দরসহ ধাতব পদার্থের দাম এখন আবার করোনার আগের সময়ের দামে ফিরে আসতে শুরু করেছে। করোনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এ বছর গড়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বছর এই দাম ২ শতাংশ হ্রাস পাবে। বিশ্ববাজারে সারের দাম এ বছর গড়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। পরের বছর এটি ৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি পণ্য করোনার প্রভাবে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে বৈশ্বিক মন্দার বিস্তারের ফলে বিশ্বের বহু মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামের এ পরিবর্তনে দেশের বাজারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দরের চেয়ে দেশে তেলের দর অনেকখানি বেশি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক দরের সমান্তরালে দেশেও তেলের দাম নির্ধারণ করার দাবি ও পরামর্শ জানিয়ে আসছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে স্থবিরতা থাকার পর বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু চাহিদা আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। বিশ্বব্যাপী পর্যটন এবং ভ্রমণ সেবা আগের মতো হতে কমপক্ষে আরো এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা করেছে, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন দেশে ফের লকডাউন এবং করোনার ভ্যাকসিন পেতে বিলম্ব হলে পূর্বাভাসের চেয়েও দর আরো কমতে পারে।

ইত্তেফাক//কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত