পদোন্নতি নিয়ে হ য ব র ল অবস্থা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে

পদোন্নতি বঞ্চিতদের ক্ষোভ ,জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
পদোন্নতি নিয়ে হ য ব র ল অবস্থা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে
পদোন্নতি নিয়ে হ য ব র ল অবস্থা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে

পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে না বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। সরকারি ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী সাধারণত, জ্যেষ্ঠতা তালিকা অনুযায়ী কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ক্রাইটেরিয়া মানা হচ্ছে তাও বুঝতে পারছেন না কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ইচ্ছামাফিক পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রে অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

বিকেবির হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১ সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো, ২০১৪ মোতাবেক বিকেবিতে মোট জনবল কাঠামো ১৫ হাজার ৪৪২ জন। এরমধ্যে গত জুলাই পর্যন্ত কর্মরত ছিল ৯ হাজার ২৩৪ জন। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পর্যায়ে প্রকট জনবল ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম গতিশীল রাখতে নিয়মানুযায়ী পদোন্নতি দেওয়ার কথা চিন্তা করে ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ। তবে এই পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিপত্তি দেখা গেছে। নিয়মানুযায়ী যেভাবে পদোন্নতি হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক চৌকস কর্মকর্তা। অন্যদিকে অর্থ লেনদেন কিংবা এমডির খেয়াল-খুশির কারণে অযোগ্য অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এতে মেধাবী ও কর্মঠ কর্মকর্তাদের মন ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য পদোন্নতি বঞ্চিতরা ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

আরো পড়ুন: বাসে আগুনের পরিকল্পনা হয় বনানীর এক বাসায়

তথ্যমতে, বিকেবিতে উপ-মহাব্যবস্থাপকের জন্য অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৩৪১টি। খালি আছে ৯১টি পদ। সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদের খালি ১৩২টি। যেখানে মোট পদ সংখ্যা ৩৪১টি। আর ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা (এসপিও) পদে খালি আছে ৩০৫টি। যেখানে মোট ৭০০টি পদ রয়েছে। এসব পদের মধ্যে সবচেয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে মুখ্য কর্মকর্তা (পিও) থেকে এসপিও পদে পদোন্নতিতে। এসপিও পদের জন্য ভাইভা দিয়েছিলেন ৩৪৪ জন। এখন পর্যন্ত ১৯৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আর এসপিও থেকে এজিএম পদে ভাইভা দিয়েছিলেন ১৭৯ জন। এ পদে মাত্র ৮৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

পদোন্নতি বঞ্চিতরা বলছেন, যদি তদবির রক্ষা করে প্রমোশন দিতেই হয় তাহলে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া কেন? যেখানে সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ খালি রয়েছে। উল্লেখ্য, এইবার এসপিও থেকে ডিজিএম ভাইভাতে পদ থাকা সত্ত্বেও অর্ধেকের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়, যেখানে অনেকেই ছিলেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পারফর্মার ও শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া। প্রিন্সিপ্যাল অফিসার থেকে এসপিও প্রমোশন ভাইভাতেও একইভাবে অসংখ্য প্রার্থী বাদ পড়েছেন যারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে যাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমন অনেকেই প্রমোশন পেয়েছেন। এই ধরনের বৈষম্যকে নজিরবিহীন বলছেন ব্যাংকাররা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আলী হোসেন প্রধানিয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত