বড় সমস্যাটা ‘মিস টার্গেটিং’

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী
বড় সমস্যাটা ‘মিস টার্গেটিং’
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে সরকার অর্থ পাঠাচ্ছে, কিন্তু তার বড় একটা অংশ যাদের কাছে যাওয়ার কথা, তাদের কাছে যাচ্ছে না বা অনেকেই সহায়তা পাচ্ছেন না। কেন যাচ্ছে না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থসচিবকে অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হলো মিস টার্গেটিং। এর ফলে আমরা সার্বিকভাবে রিটার্ন কম পাচ্ছি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কোভিড-১৯ মোকাবিলা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজের দ্বিতীয় পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

সিরিজ সভার দ্বিতীয় দিনে ‘কর্মসৃজন ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার। প্যানেল আলোচক ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মাসুদুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মনমোহন প্রকাশ, এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্য ড. শামসুল আলম।

প্রণোদনা বাস্তবায়নের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারি নির্দেশনা মানতে বাধ্য ব্যাংকগুলো। যদি কোনো ব্যাংক না মানে, তাহলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষুদ্র শিল্পে প্রণোদনার অর্থের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের এসএমই খাতে টাকা যাচ্ছে না, এর বড় কারণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ব্যাংকের যোগাযোগ নেই, তারা ব্যাংকে যান না। তাদেরকে ব্যাংকের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিতে হবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রথম ধাক্কা বাংলাদেশ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

অর্থসচিব বলেন, ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত তাদের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও ব্যাংকগুলো অনীহা দেখিয়েছে। এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, প্রণোদনার এসএমই ঋণ কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা হচ্ছে। এফবিসিসিআই বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে। তার পরও ঋণ বিতরণ কম। এর গতি বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সব প্যাকেজেই ঋণ বিতরণ কম হয়েছে। ডিসেম্বরে পুরোটাই সম্ভব না হলেও ৯০ শতাংশ বিতরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x