শেয়ারবাজারে এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ারবাজারে এক দশকে সর্বোচ্চ লেনদেন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত

নতুন বছরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত কয়েক মাস ধরেই শেয়ারবাজার ছিল চাঙ্গা। গত মাসে শেয়ারবাজারের বাজারমূলধন রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। আর বছরের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক দেড়বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে আসে। লেনদেনও বাড়তে থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন গত এক দশকের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা টিকা অনুমোদনকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তারা ভাবছেন খুব শিগিগরই করোনার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

এদিকে করোনা টিকার ব্যবসায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ভালো মুনাফা করবে এই প্রত্যাশায় শেয়ারটির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে গত কয়েক মাসে। এছাড়া পুরো ওষুধ খাতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। যা বাজারকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করেছে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, মহামারিকে কেন্দ্র করে অনেক শেয়ারের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে ঐ শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে বিনিয়োগকারীরা অতিমূল্যায়িত শেয়ারে যাতে বিনিয়োগ না করেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় মূল্য সূচকের এমন বড় উত্থান হলেও লেনদেন শেষে বড় পতন হয়েছে। গতকাল শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ১৭৮ পয়েন্ট বেড়ে যায় সূচকটি। তবে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৯ পয়েন্টে নেমে যায়। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫৪৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ২০১০ সালের ৭ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর ২ হাজার ৮০১ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে রবির শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার লেনদেন হয়েছে ১৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। ১৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—আইএফআইসি ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, কেপিসিএল এবং অ্যাকটিভ ফাইন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৫৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৯টির এবং ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ইত্তেফক/এএএ্ম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত