টনপ্রতি রডের দাম বেড়েছে ১৫ হাজার টাকা

বিপাকে নির্মাণশিল্প, সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ
টনপ্রতি রডের দাম বেড়েছে ১৫ হাজার টাকা
প্রতীকী ছবি

দেশে রডের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। প্রতি টনে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেড়েছে। রডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কাজ বন্ধ রেখেছেন। রড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির স্ক্র্যাপ ও পুরোনো জাহাজের দাম বেড়ে গেছে। এতে জাহাজ আমদানিও কমে গেছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, বছরের এই সময়ে বাজারে রডের চাহিদা বেশি থাকে। এই সুযোগে সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বেচাকেনাও কমে যাচ্ছে।

বাজারে রডের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দুই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় ৬০ গ্রেডের রড উৎপাদন করা হয়। আবার মাঝারি আকারের ৪০ গ্রেডের রড তৈরির কারখানা প্রচুর রয়েছে। জানা যায়, যাদের রি-রোলিং মিল রয়েছে, তারাই পুরোনো জাহাজ আমদানি করতে পারে। এতে বিপাকে পড়েছেন মাঝারি ধরনের রডের মিল মালিকেরা। তাদের অভিযোগ, দেশের বৃহৎ ইস্পাত মালিকেরা চাহিদার কয়েক গুণ বেশি রড তৈরির কাঁচামাল মজুত করে রেখেছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে রডের দাম বৃদ্ধি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাইকারি বিক্রেতারা জানান, গত এক মাস যাবত্ দফায় দফায় রডের দাম বাড়ানো হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে দেশে রডের চাহিদা বেড়ে যায়। এই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়িঘর নির্মাণ বেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চলছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে চলমান উন্নয়নমূলক কাজেও রডের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রডের দাম বাড়ার কারণে সবাই বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মাণকাজে ধস নেমেছে। রডের দাম বাড়ায় অনেকেই নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রেখেছেন। নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার রডের পাইকারি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, দফায় দফায় রডের দাম বাড়ছে। বেচাকেনা কমে গেছে। ক্রেতারা দাম শুনে ফেরত যাচ্ছেন। ৬০ গ্রেডের রডের দাম প্রতি টনে ১৪-১৫ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। আর ৪০ গ্রেডের দাম টনে ৭-৮ হাজার বেড়েছে।’

রি-রোলিং মিল মালিকেরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাস যাবৎ পুরোনো জাহাজের দাম বেড়ে গেছে। পাশাপাশি স্ক্র্যাপের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে পুরোনো জাহাজ আমদানিও কমে গেছে। ফলে কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে। রড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক আনামুল হক ইকবাল ইত্তেফাককে বলেন, দেশের বড় বড় রোলিং মিল মালিকেরা বাজার থেকে রড তৈরির কাঁচামাল কিনে মজুত করে রেখেছেন। মজুতের কারণে বাজারে কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে। রি-রোলিং মিল মালিক জান্নাতুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। রি-রোলিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. এয়াছিন চৌধুরী বলেন, দেশে রডের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু উত্পাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুপাতে মিল থেকে রড সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। আবার সিলেট সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রড নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x