দিনাজপুর ও ঝিনাইদহে অস্থির চালের বাজার

মিলমালিক ও আমদানিকারকদের পালটাপালটি অভিযোগ
দিনাজপুর ও ঝিনাইদহে অস্থির চালের বাজার
চালের বাজার। ছবি: ইত্তেফাক

ধানের জেলা দিনাজপুরে হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য চাল বিক্রেতারা দুষছেন মিলমালিকদের।

আর মিলমালিকরা বলছেন, বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে আমদানিকারকরাই। তবে আমদানিকারকদের ভাষ্য, তারা মোট চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন, যা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

দিনাজপুর জেলার প্রধান চালের বাজার শহরের বাহাদুর বাজারে রবিবার গিয়ে দেখা যায়, গত দুই-তিন দিনের ব্যবধানে মিনিকেট চাল প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৯৫০ টাকায়, বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়, বিআর-২৯ জাতের চাল ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায় এবং প্রতি বস্তা সুমন স্বর্ণ চাল ২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ দুই-তিন দিনের ব্যবধানে বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে বাহাদুরবাজারের চাল বিক্রেতা আহম্মদ আলী জানান, তারা মিলমালিকদের কাছ থেকে চাল কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন। মিলমালিকরা হঠাত্ দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেশি দামে চাল কিনে বাধ্য হয়েই বেশি দামেই চাল বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ মিলমালিক হাত গুটিয়ে বসে আছে। এ জন্য সরকারের আমন সংগ্রহ অভিযানেও তারা অংশ নিতে পারেননি। ধানের দাম বেশি থাকায় বেশির ভাগ চালকল মালিকই চাল তৈরি করছেন না। তাই তাদের মূল্যবৃদ্ধির তেমন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫ শতাংশ থেকে দুদফা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। এখন মাত্র ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্কে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। তার মতে বর্তমানে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন আমদানিকারকরা।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, বাজারে মোট চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এই ৫ শতাংশ চাল দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্র্রণ সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব বাজারেও পড়ছে না। তিনি বলেন, বাকি ৯৫ শতাংশ চাল রয়েছে মিলমালিকদের কাছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে তা মিলমালিকরাই করছেন। হারুন-উর রশিদ বলেন, বর্তমানে মিলমালিকরা তাকিয়ে আছে বিদেশ থেকে কী পরিমাণ চাল আমদানি হচ্ছে তার দিকে। আমদানির ভিত্তিতে (কমবেশি) তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।

এদিকে ঝিনাইদহ থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে চালের বাজার ফের অস্থির হয়ে পড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের চালের দম কেজিপ্রতি দুই-তিন টাকা করে বেড়েছে। ঝিনাইদহ জেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। মোটা ধান স্বর্ণা ও গুটি স্বর্ণা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১২০-১ হাজার ১৩০ টাকা মণ দরে। মাঝারি চিকন ধান বিনা-৭ ও হাইব্রড ধানী গোল্ড প্রতি মণের দাম চড়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে। আর মিনিকেট ও বাসমতি ধানের জোগান হাটবাজারে নেই বললেই চলে। পাওয়া গেলেও মিনিকেট প্রতি মণ ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং বাসমতি ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x