চট্টগ্রামে আতপ চালের সংকট, আমদানির অনুমতি মিলছে না

রোহিঙ্গাদের কারণে চাহিদা বেড়েছে
চট্টগ্রামে আতপ চালের সংকট, আমদানির অনুমতি মিলছে না
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাজারে আতপ চালের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুপাতে চাল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার আতপ চাল আমদানির অনুমোদন না দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। চট্টগ্রামে চাল আমদানির যারা অনুমোদন পেয়েছিলেন তারা কেউ আমদানি করেননি। এ অবস্থায় চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুচরা বাজারে বেড়েছে আরো বেশি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রোহিঙ্গা আসার পর চট্টগ্রামে আতপ চালের চাহিদা বেড়েছে। কারণ তারা সিদ্ধ চাল খায় না। রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি মাসে ৬/৭ হাজার টন আতপ চালের প্রয়োজন হয়। এর বাইরেও চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে আতপ চালের চাহিদা রয়েছে। তাই বাজারে আতপ চালের সংকট দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এই অঞ্চলের মানুষ আতপ চাল বেশি খাওয়ায় চট্টগ্রামে এমনিতেই এ চালের চাহিদা বেশি। চট্টগ্রামে ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন পাওয়া খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম বলেন, আমি আতপ চাল আমদানির অনুমতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় অনুমতি দেয়নি। তাই আমি চাল আমদানি করিনি। এছাড়া এলসি খোলার অনুমতির পর ভারতে চালের দাম ৩৮০ ডলার থেকে প্রায় ৫০০ ডলারে উঠেছে। আমদানি মূল্য বেশি পড়ায় বাজারে চালের দাম কমছে না।

এছাড়া চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ দেশের চালের মজুতের অবস্থা বিবেচনা করে অন্তত আরো তিন মাস আগে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। পরে অনুমতি দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা এক সঙ্গে ভারতে চালের অর্ডার করেছে। এতে ভারতের ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার এলসি খোলার অনুমতি দেওয়ার পর কিছুদিন চালের দাম নিম্নমুখী ছিল। পরে হঠাৎ আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

পাহাড়তলী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, যারা চাল আমদানির লাইসেন্স পেয়েছে তারা সিন্ডিকেট করেছে। তাই চালের দাম আবার বেড়ে গেছে। বাজারে আতপ চালের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এখন মোটা চালের দামও বেড়ে গেছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ সমস্যায় পড়েছে। চাক্তাই চাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাইরে থেকে আতপ চাল আসছে না। রোহিঙ্গাদের কারণে চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বাজারে আতপ চালের চরম সংকট চলছে। এ অবস্থায় আতপ চাল আমদানির অনুমতি না দিলে ঊর্ধ্বমুখী বাজার ঠেকানো যাবে না।

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সরকারিভাবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আড়াই লাখ মেট্টিক টন আতপ চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম দফায় ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল শিগিগরই পৌঁছবে। দ্বিতীয় দফায় মিয়ানমার থেকে ১ লাখ টন ও ভারত থেকে ১ লাখ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি সংস্থা রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম অব্যাহতভাবে বাড়লেও কার্যকর মনিটরিং হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলছে। চলতি মাসে ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মনিটরিং আরো জোরদার করা হবে। রজমান মাস পর্যন্ত এই মোবাইল কোর্ট চলবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x