চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক মজুরি নিয়ে জটিলতা

শিপিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক মজুরি নিয়ে জটিলতা
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা খোলা পণ্যবাহী জাহাজের (ব্রেকবাল্ক শিপ) এবং কন্টেইনারবাহী জাহাজের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে শ্রমিক মজুরি বা অনবোর্ড অপারেশন বিল প্রশ্নে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন স্বচ্ছতা দাবি করেছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে আসা খোলা পণ্য এবং কন্টেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োজিতদের সংগঠন বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন সহযোগিতার পরিবর্তে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিপিং এজেন্টরা।

অন্যদিকে বার্থ অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম চেম্বার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় শিপিং এজেন্ট এবং বার্থ অপারেটরদের মধ্যে ২০১৬ সালে শ্রমিকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়। শিপিং এজেন্টরা ২০১৮ সালে এসে চুক্তি অনুসারে ইনক্রিমেন্ট দেবে না বলে জানায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় গত বছরের ৬ নভেম্বরে শিপিং এজেন্টস এবং বার্থ অপারেটর নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে, বিষয়টির চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং মজুরির ওপর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৯ শতাংশের স্থলে সাড়ে ৫ শতাংশ বলবত্ থাকবে—এরকম অন্তর্বর্তীকালীন একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে বলে ইত্তেফাককে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ট্রাফিক এনামুল করিম।

চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, শ্রমিকদের বিদ্যমান প্রদেয় মজুরির ওপর ৯ শতাংশ ও ৪ শতাংশ হারে বাত্সরিক ইনক্রিমেন্ট সংযুক্তির বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো মহলের সংশয় নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কমিটি হয়েছে বলে শুনেছি। এ কমিটি গত বছর গঠিত হয় বলেও শুনেছি। তবে কমিটি কী করছে, না করছে সে সম্পর্কে আমি বিশেষ কিছু জানি না।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। এখানে ৫ ক্যাটাগরির শ্রমিকরা কাজ করে। বছরে তাদের মজুরির ওপর ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট হতো। কিন্তু ২০১৮ সালে এসে শিপিং এজেন্টরা এই হারে ইনক্রিমেন্ট দেবে না বলে জানায়। এ নিয়ে অনেকগুলো বৈঠক হয়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ থেকে বাল্ক বা খোলা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ৯ শতাংশ এবং কন্টেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ৪ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট মূল মজুরির ওপর ধার্য করে। তিনি বলেন, শিপিং এজেন্টদের অনেকেই এ হারে ইনক্রিমেন্ট দিচ্ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ ইত্তেফাককে বলেন, বার্থ অপারেটরদের কস্টিং বের করে তারা শ্রমিকদের কতো মজুরি দিচ্ছে তা জানিয়ে দিলে শিপিং এজেন্টরা নির্ধারিত ইনক্রিমেন্ট আপত্তি ছাড়াই দেবে।

তিনি আরও বলেন, শিপিং এজেন্ট কর্তৃক প্রদেয় অন বোর্ড অপারেশনের বিপরীতে খোলা পণ্যবাহী জাহাজের শ্রমিকরা বর্তমান মজুরির ওপর ৯ শতাংশ হারে এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং মজুরির ওপর ৪ শতাংশ হারে প্রতি বছর মজুরি বৃদ্ধির জন্য পরিচালক পরিবহন (ট্রাফিক) অনবোর্ড অপারেশনের জন্য বার্থ অপারেটর/টার্মিনাল অপারেটরদের বিল পরিশোধের দপ্তরাদেশ জারি করেন। যদি শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরির ওপর এই হারে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়, তাতে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো শ্রমিকদের নামে অধিক মুনাফা তুলে নিয়ে যাচ্ছে অপারেটররা।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x