পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

কার্যক্রম চলবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়

কার্যক্রম চলবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়
ফাইল ছবি

অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) অপারেশন কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিপূর্বে পিসিটির অপারেশন পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগসহ অন্তত তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন পরিচালনা বোর্ড নিজস্ব উদ্যোগে এর পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়।

গত বছর মার্চ মাসে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম বোর্ড সভার প্রথম সিদ্ধান্তে বলা হয়, স্থানীয় বার্থ-টার্মিনাল অপারেটর লিড পার্টি হিসেবে বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে যৌথভাবে (জেভি) পিসিটি পরিচালনা করবে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার-কার্গো হ্যান্ডলিং রেগুলেশন ২০০১-এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের সঙ্গে উক্ত সিদ্ধান্তের কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটে কি না, সে ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ও আইন উপদেষ্টার মতামতও গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গত বছরের জুন মাসে অপর এক বোর্ড সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পিসিটির কাজ দ্রুত শুরু করতে হলে ইকুইপমেন্টের সংস্থান রাখা প্রয়োজন। যা বিগত বোর্ড সভায় ইকুইপমেন্ট সংস্থান বাদ দেওয়া হয়েছিল। জুন মাসের বোর্ড সভায় বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ইকুইপমেন্ট কেনার প্রস্তাব রেখে উক্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একইভাবে পূর্বের অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়।

সভায় পিসিটির অপারেশন পদ্ধতি বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকল্প সমাপ্তির অন্তত ছয় মাস পূর্বে গ্রহণ করা হবে বলে বলা হয়। কিন্তু জানা যায়, মন্ত্রণালয় উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে পিসিটির অপারেশন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে করা হবে মর্মে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। উক্ত নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে পিপিপি পদ্ধতিতে অপারেশন সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাব পাঠায়। জানা যায়, উক্ত প্রস্তাব সম্প্রতি কেবিনেট কমিটিতে অনুমোদনও হয়।

এদিকে, আগামী জুন মাসে পিসিটির তিনটি জেটি এবং একটি ডলফিন জেটির মধ্যে একটি জেটি এবং ডলফিন জেটির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই দুটি জেটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ইকুইপমেন্ট দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পিসিটি পরিচালনায় সক্ষম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু আরটিজিসহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে জুন মাসে পিসিটির একটি জেটি এবং ডলফিন জেটি পরিচালনা শুরু করা হবে। তিনি বলেন, উক্ত জেটিতে গ্যান্ট্রিক্রেনের প্রয়োজন পড়বে না। কারণ যে সব জাহাজের নিজস্ব ক্রেন রয়েছে ঐসব জাহাজ ঐ জেটিতে ভিড়বে। তিনি বলেন, সরকার পরবর্তী সময়ে যে পদ্ধতিতে পিসিটির অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেবে তখন সে অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ইতিমধ্যে তিন-চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান পিসিটির অপারেশন কাজ পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদনশীলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন টার্মিনাল ও জেটি নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়ে। ২০০৭ সালের পর চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কোনো টার্মিনাল নির্মাণ হয়নি। তাছাড়া সরকার দেশে ইতিমধ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা সহসা নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে পিসিটি নির্মাণের কাজ শুরু করে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিসিটির নির্মাণকাজ গত বছর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তার সময় আরও প্রায় এক বছর বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার টার্গেট ধরা হয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x