আসছে বাজেট

সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে এডিপির আকার

ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর বাড়বে নির্ভরতা
সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে এডিপির আকার
ছবি: সংগৃহীত

কৃচ্ছ্রসাধনে নানা উদ্যোগ নিলেও আসছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর হিসাব কষছে সরকার। খরচ বাঁচাতে চলতি অর্থবছরের শেষ দুই মাস নতুন করে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে নতুন অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার সাত ভাগের বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। করোনার প্রভাবে এডিপি বাস্তবায়নও বিগত বছরগুলোর চেয়ে কমে গেছে। রাজস্ব আয়েও কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। এর পরেও সম্প্রসারণমূলক বাজেট আসছে নতুন অর্থবছরে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াবে। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপির সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সে হিসেবে এডিপির আকার বাড়ছে ৭ দশমিক ২ শতাংশের মতো। করোনার প্রকোপ শুরুর আগের দুই বছর গড়ে ১১ থেকে ১৮ শতাংশ বেড়েছিল এডিপির আকার। চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার বেড়েছিল মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। করোনার বছরেও নতুন অর্থবছরে এডিপির আকার ৭ শতাংশের বেশি বাড়ছে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর শুরুর আগে থেকেই দেশে করোনার প্রকোশ শুরু হয়। এখন চলছে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা। ফলে আগামী অর্থবছরও রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হবে না—এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় আসছে বাজেটে ঘাটতি ধরা হবে জিডিপির ৬ দশমিক ২ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে। সেই হিসেবে আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পরিকল্পনা কমশিন সূত্রে জানা যায়, আগামী অর্থবছরের এডিপি চূড়ান্ত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠক শিগিগরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এজন্য নতুন এডিপির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। চলমান মেগা প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। মোট এডিপির ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এ খাতে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে, যা মোট এডিপির ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এডিপিতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বা এডিপির ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ বিভাগের বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যে এডিপির খাতভিত্তিক প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। তবে খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বরাদ্দের আকার বাড়তে বা কমতে পারে।

রাজস্ব আদায় ও এডিপি বাস্তবায়ন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে এনবিআর, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। করোনাকালে লক্ষ্যমাত্রার কতটা রাজস্ব আহরণ সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ৯ মাসে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। গত পাঁচ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্রে দেখা যায়, এই ৯ মাসে গড়ে ৪৫ ভাগের ওপরে বাস্তবায়ন হয়েছিল। এবার বাস্তবায়ন হার অনেক কমে গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের এই ৯ মাসে টাকার অঙ্কে ৮৭ হাজার ৭৩৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে পেরেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। গত বছর ব্যয় হয়েছিল ৯০ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৪৫ শতাংশ। সে হিসেবে টাকার অঙ্কেও বাস্তবায়ন কমেছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x