রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দফার সংস্কার করতে হবে

আইএফসি ও বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট
রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দফার সংস্কার করতে হবে
ফাইল ছবি

পণ্যে বৈচিত্র্য এনে রফতানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এর আধুনিকায়নে নতুন দফার সংস্কার শুরু করতে হবে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ উন্নয়নে সাফল্য দেখিয়েছে। পরবর্তী দশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে বাংলাদেশের এখন গতি পরিবর্তনের সময়। আইএফসি এবং বিশ্বব্যাংক প্রণীত বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রাইভেট সেক্টর ডায়গনস্টিক (সিপিএসডি) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা থেকে বের হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বেসরকারি খাত শক্তিশালী করতে সংস্কার দরকার

প্রতিবেদনে সংস্কার অগ্রাধিকারে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করা, আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা। বেসরকারি খাতে উজ্জ্বলতম বিনিয়োগ সম্ভাবনার খাতের মধ্যে রয়েছে পরিবহন ও লজিস্টিকস, জ্বালানি, আর্থিকসেবা, হালকা প্রকৌশল, কৃষি বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘কোভিড-১৯ অতিমারির প্রতিকূল প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত বছর ইতিবাচক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যে মন্দার কবলে পড়েনি। আমরা কোভিড-১৯ অতিমারির সব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। তিনি বলেন, ‘সিপিএসডি রিপোর্টের সুপারিশগুলো ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে যেতে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফনসো গার্সিয়া মোরা বলেন, ‘অতিমারি বাংলাদেশের ওপর কঠিন আঘাত হেনেছে এবং দেশটি কোভিড-১৯ থেকে উত্তরণের পর্যায়ে থাকায় সংস্কারের প্রয়োজনীতা আরো দৃঢ়ভাবে দেখা দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে ৭০ শতাংশের বেশি অবদান রয়েছে বেসরকারি খাতের। এখন অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে এ খাতের জোরালো ভূমিকা রাখার দরকার, যাতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।’

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x