রাসেল-শামীমার পরিবারের সদস্যরাই ইভ্যালির হর্তাকর্তা  

রাসেল-শামীমার পরিবারের সদস্যরাই ইভ্যালির হর্তাকর্তা  
ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যান। ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) রিমান্ডে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। রিমান্ডের প্রথম দিন শনিবার সকাল থেকে তাদেরকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে লাখ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা শত শত কোটি টাকার সন্ধান জানার চেষ্টা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। রাসেল ও তার স্ত্রীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল প্রকাশ্যে থাকলেও কোম্পানির প্রায় সব ধরনের কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন এবং তার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের হাতে। কোম্পানির হেড অব এইচআর ছিলেন রাসেলের শ্যালিকা সাবরিনা নাসরিন। ডিরেক্টর টেকনিক্যাল শামীমার বোনের স্বামী মামুনুর রশীদ। ডিরেক্টর পারচেজ অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শামীমার বন্ধু আতিকুর রহমান। আর তার দুই ভাগ্নে জাহেদ ও জুবায়ের দেখতেন মোটরসাইকেলের বিষয়গুলো। তবে কোম্পানিকে সঠিক পথে চালিয়ে নিতে জবাবদিহিতা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগের অভাব ছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে, এমডি রাসেলের মুক্তির দাবিতে আবারো মানববন্ধন করেছেন ইভ্যালির গ্রাহক ও সেলাররা। বিকেলে ধানমন্ডিতে ইভ্যালি অফিসের সামনে ২ শতাধিক গ্রাহক ও সেলার এ মানববন্ধন করেন। এসময় তারা রাসেলের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। মানববন্ধনে আমজাদ হোসেন আকাশ নামে এক সেলার বলেন, রাসেলকে আটকে রাখলে কখনোই সমস্যার সমাধান হবেনা। যেহেতু তার (রাসেল) পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তার দেশ ত্যাগের সুযোগ নেই। সুতরাং তাকে মুক্তি দিয়ে নজরদারিতে রেখে পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেয়ার সুযোগ দেয়া হোক।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় ‘টি-১০’ সংক্রান্ত এক ‘জরুরি নোটিসে’ ইভ্যালির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের প্রধান দুজন সিগনেটরি- সম্মানিত সিইও এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে, আমাদের সেলারদের রেগুলার বিল দিতে পারছি না। এজন্য আমাদের স্বাভাবিক ডেলিভারি কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তাই আপনাদের (ক্রেতা) করা শুক্রবারের টি-১০-এর সব অর্ডার আপাতত রিকোয়েস্ট হিসেবে জমা থাকবে।’

গত বুধবার দিবাগত রাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মো. রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা (নম্বর-১৯) দায়ের করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির একজন গ্রাহক। এর পরের দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পরে গুলশান থানার ওই মামলায় শুক্রবার তাদেরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গুলশান থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x