পাঁচ বছরে দেশে এডিবির ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে

কান্ট্রি পার্টনারশিপ প্রকাশ
পাঁচ বছরে দেশে এডিবির ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে আরো সহায়তার অঙ্গীকার নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজি (সিপিএস)’ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৯৬০ কোটি ডলার (৮১৬০০ কোটি টাকা) ঋণ দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২১ থেকে ২০২৫ মেয়াদে এই ঋণের আকার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার এডিবির সদরদপ্তর ম্যানিলা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন এই অর্থায়ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। এবারের অর্থায়নে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানো, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্য উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করবে এডিবি। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক কেনিচি ইয়োকোয়ামা উল্লেখ করেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং যথাযথ নীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের ভালো সুফল পাচ্ছে। এখন এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্প ও রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য প্রয়োজন। উত্পাদন ও রপ্তানি খাতে বহুমুখীকরণে বিশেষ করে কৃষিপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি খাত, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। কোভিডের প্রভাব কাটাতে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।

এবারের সহায়তা কৌশলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি এবং অর্থনীতিতে বহুমুখীকরণের কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলা, প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় অগ্রাধিকার থাকবে।

এডিবি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে এডিবির সহায়তা অব্যাহত থাকবে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থায়ন, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়বে। গ্রামীণ অঞ্চলে স্বল্প খরচের আবাসন, দরিদ্রদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাশ থেকে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অতি দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১০ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে এই সহায়তা কৌশল সহায়ক হবে বলে এডিবি উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ভ্যাক্সিন ক্রয়ে এডিবি ৯৪ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। সরকারিভাবে ১০০ কোটি ডলার (৮৫০০ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে এডিবির কাছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে বাকি সহায়তা দেওয়া হবে বলে এডিবি উল্লেখ করেছে।

ইত্তেফাক/এসএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x