সুদ কমার পরও বাড়ছে ব্যাংকের আমানত

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৯, ০৫:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  রেজাউল হক কৌশিক

ফাইল ছবি

ব্যাংকিং খাতের আমানত প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতে আমানতে ৬ শতাংশ ও ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করে দেওয়ার পরে আশঙ্কা করা হয়েছিল আমানত কমে যাবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে। একইসঙ্গে ঋণও বেড়েছে।

জানুয়ারি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন আমানতের পরিমাণ ৯ লাখ ১৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত আট লাখ ২১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। আর তলবী আমানত ৯৭ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে জানুয়ারি শেষে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। ঋণের মধ্যে রয়েছে ঋণ ও অগ্রিম, কল মানি, রেপো, ইমপোর্ট ও ইনল্যান্ড বিল, ট্রেজারি বিল, বন্ড, শেয়ার ও সিকিউরিটিজ প্রভৃতি।

ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংকের আমানত বাড়বে, কমবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সরকার ও ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) উদ্যোগে সুদহার নির্ধারণ করার পর আশঙ্কা করা হয়েছিল আমানত অনেক কমে যাবে। তবে তেমনটা হয়নি। বিএবির সিদ্ধান্ত মেনে গত জুলাই থেকে আমানতে ৬ শতাংশ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদের ঘোষণা দেয় ব্যাংকগুলো। এ সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের সুদহারও ৬ শতাংশ ঠিক করে দেওয়া হয়। তবে সব ব্যাংক তা মানেনি। এরপরই আমানত নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।

তারা বলছেন, সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছিল। এর বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক আমানত, সাধারণ মানুষের আমানত না। সুদহার পরিবর্তনের কারণে ওই তহবিল এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে গেছে। ফলে এ খাত থেকে আমানত খুব বেশি সরেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএবির সিদ্ধান্ত মানতে গিয়ে আমানতের সুদহার কমিয়েছে অনেক ব্যাংক। ক্ষেত্র বিশেষে, আড়াই থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে কেউ কেউ। অন্যদিকে কোনো কোনো ব্যাংক আবার বেশি সুদেই আমানত সংগ্রহ করছে। তার প্রমাণ দেখা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো প্রতিবেদন থেকেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে যেসব নীতিনির্ধারণী কলাকৌশলের মাধ্যমে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ হতো, চাপ দিয়ে তা পরিবর্তন করে নিয়েছেন ব্যাংক পরিচালকেরা। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ভূমিকা রাখত, এখন তা রাখতে পারছে না। এছাড়া সরকারি সংস্থার তহবিলের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেওয়ায় আমানত নিয়ে যে টানাটানি শুরু হয়েছিল এখনো তা করছে কোনো কোনো ব্যাংক।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থিক খাতের প্রসার ও পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। কারণ, গ্রামীণ জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবার আওতাভুক্ত করতেই নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে অর্ধেক শাখা গ্রামে/পল্লী এলাকায় স্থাপনের জন্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অভাবনীয় পুনর্জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যাংকে আমানত রাখে।

আরো পড়ুন: নিউজিল্যান্ডে হামলায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি হয়ে গেছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ হওয়া ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের বছর অর্থাত্ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। যা ছিল ওই বছরের বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মূলধন ঘাটতি বাড়ে। ডিসেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি ব্যাংক। ২০১৮ সাল শেষে এসব ব্যাংকের ২৬ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এক বছর আগে আট ব্যাংকে ১৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি ছিল।

ইত্তেফাক/আরকেজি