গঠন করা হচ্ছে ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ২১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

সাভার চামড়া শিল্পনগরির সার্বিক বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ইত্তেফাক

সাভার চামড়া শিল্পনগরির কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনার জন্য ‘ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এটি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে ২৬ মে এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সময়ের মধ্যে যেসব ট্যানারি মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করবেন, তাদের সদস্য করে কোম্পানিটি গঠন করা হবে।  

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে সাভার চামড়া শিল্পনগরির সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান, এলএফএমইএবি’র চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, বিএফএলএলএফইএ এর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিনসহ বুয়েট, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।  

সভায় সাভার চামড়া শিল্পনগরির সার্বিক অবস্থা বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে প্লটের মূল্য কমানোর দাবি, সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থাকরণ, ট্যানারি মালিকদের ক্ষতি পূরণের অর্থ পরিশোধ এবং লেদার ওয়াকিং গ্রুপের কমপ্লায়েন্স অনুসরণের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনায় স্থান পায়। 

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চামড়া শিল্পনগরির প্রতি বর্গফুট জায়গা উন্নয়নের জন্য সরকারের এক হাজার সাতশ টাকা খরচ হলেও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে তা প্রতি বর্গফুট ৪৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় প্লটের মূল্য কমানোর আর কোনো সুযোগ নেই। যেসব ট্যানারি মালিক স্থানান্তরের শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের অনুকূলে শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম ইপিজেডে আগুন

সভায় জানানো হয়, সাভার চামড়া শিল্পনগরির সিইটিপি’র অবশিষ্ট যন্ত্রপাতি সিডিউল অনুযায়ী প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) শেষে স্থাপন করা হবে। চীনা ঠিকাদার কোম্পানি আগামী চার মাসের মধ্যে সিইটিপি পুরোপুরি চালু এবং দেশিয় জনবলকে প্রশিক্ষিত করে কোম্পানির কাছে পরিচালনার দায়িত্বভার হস্তান্তর করবে। এছাড়া, চামড়া শিল্প নগরির সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করার বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  

সভায় ট্যানারি মালিকরা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, এটি দ্রুত না করা হলে ২০২১ সাল নাগাদ চামড়া শিল্পখাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে।  

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার ট্যানারি মালিকদের অনেক সুবিধা দিয়েছে। এ শিল্পের স্বার্থে আইনের আওতায় ভবিষ্যতেও যতটুকু সুবিধা দেয়া সম্ভব, তা দেওয়া হবে। তবে জমির মূল্য কোনোভাবেই কমানো হবে না। 

ইত্তেফাক/অনি