ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
৩২ °সে


বাড়ছে আয়করের আওতা কার্যকর হচ্ছে ভ্যাট আইন

প্রতিষ্ঠান লোকসানি হলেও এআইটি দিতে হবে
বাড়ছে আয়করের আওতা কার্যকর হচ্ছে ভ্যাট আইন
ফাইল ছবি

সোয়া তিন লাখ কোটি টাকা রাজস্বের যোগান দিতে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাতে মূল নজর থাকবে সরকারের। করদাতা বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন এলাকার বাড়ির মালিকদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় আনা হবে। রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়িয়ে জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামেও আয়করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণা করবে সরকার। এর ফলে মধ্যবিত্তের উপর চাপ বাড়তে পারে। বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট আইন অবশেষে আগামী জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আইনটি বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে সরকার বহুস্তর ভ্যাট হার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তা পর্যায়ে বাড়তি ভ্যাটের চাপ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণাকালে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আশ্বস্ত করতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

চলতি অর্থবছর সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় ঠিক করা হচ্ছে। এর উপর ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে আগামী অর্থবছর এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হচ্ছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাত থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি, ভ্যাট থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭২ কোটি ও শুল্ক বাবদ ৯২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব দেবেন অর্থমন্ত্রী।

আয়করের আওতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও কর প্রদানের বাধ্যবাধকতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। টিআইএনধারী বিদ্যমান ৪০ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারী বা কর প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। আয়করের বড় অংশ আদায় হওয়া উেস কর ও অগ্রিম আয়কর আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর প্রদানের বাধ্যবাধকতায় আনতে এবার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। অতীতে প্রতিষ্ঠান লোকসান দেখিয়ে এ ধরনের কর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার সে সুযোগ বাতিল হচ্ছে। লোকসান করলেও এ কর পরিশোধ করতে হবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমলেও মুনাফায় করের হার বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়বে। গার্মেন্টসসহ সব ধরনের রপ্তানির উেস কর হার বাড়তে পারে।

ভ্যাট হার ভোক্তার জন্য সহনীয় রাখতে ১৫ শতাংশ ছাড়াও আরো চারটি ভ্যাট হার হচ্ছে। এগুলো হলো- ১০ শতাংশ, সাড়ে সাত, পাঁচ ও দুই শতাংশ। ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রেয়াত নিতে পারলেও অন্যদের জন্য সে সুযোগ থাকছে না। বিশেষ কিছু পণ্যের জন্য থাকছে দুই শতাংশের ভ্যাট। এছাড়া যেসব পণ্য বর্তমানে ট্যারিফ পদ্ধতিতে ভ্যাট দিচ্ছে, এমন বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে (ওজনে পরিমাপ হওয়া পণ্য) ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ নামে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আদায় হবে। অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) আদায় হবে অগ্রিম কর নামে। বর্তমানে কেবল বাণিজ্যিক পণ্যের আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট আদায় হলেও বন্ডেড সুবিধায় আনা পণ্য বাদে অন্য সব ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এডভান্স ট্যাক্স দিতে হবে। এছাড়া ধীরে ধীরে সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় শিল্পের কথা বিবেচনা করে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি (টার্নওভার) ভ্যাটমুক্ত থাকছে। পরবর্তী তিন কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে চার শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স আদায় হবে।

এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে যে হারে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট পরিশোধ করছেন, নতুন আইনে যে হার ঠিক করা হচ্ছে, সেখানেও ভ্যাট হার এমনভাবে ঠিক করা হচ্ছে, যাতে চাপ না বাড়ে। বাড়তি ভ্যাটের চাপ দেওয়ার চাইতে বরং নতুন ভ্যাট আইনটি চালু করার আগামী অর্থবছরব্যাপী সময় নিতে চায়। এজন্য সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আইনটি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ১৫ শতাংশের নিচের ভ্যাট স্তরে রেয়াত সুবিধা না থাকা এবং কাদের উপর কী ধরনের হার নির্ধারণ হয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষত স্টিল, রড, টেক্সটাইলসহ ট্যারিফ পদ্ধতিতে ভ্যাট প্রদানকারী কয়েকটি খাতের উদ্যোক্তারা ভোক্তা পর্যায়ে ভ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে আগামী অর্থবছরে এক লাখ ইলেক্ট্রনিক হিসাবযন্ত্র (ইএফডি) সরবরাহ করা হবে। বড় বড় মার্কেট ছাড়িয়ে হিসাব রাখার বাধ্যবাধকতার আওতায় আসবে গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকার অলিগলির দোকানও। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনটির বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। সব ব্যবস্থা কম্পিউটারাইজড ও অনলাইনভিত্তিক না হলে এর সুফল মিলবে না। অন্যদিকে এনবিআরের মাঠ পর্যায়েও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন