সোনার ডিম দেওয়া রাজহাঁসের মরণদশা: অ্যামটব

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ২১:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

ছবি : সংগৃহীত

টেলিকম সেক্টরকে রাজহাঁসের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, এই রাজহাঁসটির এখন মরণদশা। অর্থমন্ত্রী যেখানে অতি সাবধানে একটি করে পালক তোলার কথা বলেছেন, সেখানে রাজহাঁসটিই মরতে বসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রয়াসের প্রতিবন্ধকতার বিবেচনায় সরকারকে টেলিযোগাযোগখাতে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। অ্যামটব বলছে, প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক নীতিমালা বর্তমান ও নতুন গ্রাহকদের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়াবে। এতে রাজহাঁসটির মরণ দশা হবে বলে মনে করে অ্যামটব। 

আজ মঙ্গলবার সোনারগাঁও হোটেলে বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে এ অনুরোধ জানিয়েছে অ্যামটব। অ্যামটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক নীতিমালা বর্তমান ও নতুন গ্রাহকদের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়বে। মোবাইল ইন্ডাষ্ট্রি সরকারের জন্য রাজহাঁস, এটি সোনার ডিম দেয়। বাজেট বক্তৃতায় রাজহাঁস থেকে পালক তোলার কথা বলা হয়েছে, রাজহাঁস যেন ব্যাথা না পায়। এ খাত ৬ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপিতে অবদান রাখছে। সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে পালক তুলে শুধু ব্যাথা দেওয়া নয়, মরণ দশা হয়েছে। এই রাজহাঁসকে সরকার যেন কোলে করে রাখে, যেন বেশি রেভিনিউ দিতে পারে। বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়ালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেউ যদি ১০০ টাকার সেবা নিতে চান, তাহলে ৭৮ দশমিক ২৭ টাকার সেবা নিতে পারবেন। ২২ দশমিক ৭২ টাকা যাবে সরকারের পকেটে। এছাড়া সিমের ওপর কর দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং মোবাইল কোম্পানির আয়ের ওপর সর্বনিম্ন শুল্ক ০.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব আসায় বাড়তে যাচ্ছে স্মার্টফোনের দাম। এস এম ফরহাদ বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি মোট আয়ের ওপর নূন্যতম কর ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবিবেচনাপ্রসূত হারে কর হার বৃদ্ধি ও নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপ ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রক্রিয়াটিকে হুমকির মুখে ফেলবে।

আরও পড়ুন: মোবাইল ব্যাংকিং: ব্যালেন্স দেখলে টাকা যাবে না গ্রাহকের

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের কোন দাবি মানা হয় না, আরো বেশি ট্যাক্স ইমপোজ করা হয়েছে। অনেকে বলে প্রফিট করি  দেখাই না, তবে কোন অডিটে বের হয়নি আমরা টাকা পাচার করছি। আমাদের পাশে কেউ নেই কথা বলার, একমাত্র প্রেস ছাড়া। অনুষ্ঠানে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাদাত হোসেন, টেলিটকের উপ মহাব্যবস্থাক সাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/কেকে