ই-কমার্সে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি অনলাইন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৯, ২০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন রিপোর্ট

ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত অনলাইন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের গোল টেবিল বৈঠক।

রাজধানীতে অনলাইন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সংগঠন 'ই-কমার্স অন্টাপ্রনার্স অ্যান্ড কনজ্যুমার্স' এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল 'অনলাইন কেনাকাটায় নতুন কর/ভ্যাট ও উদীয়মান ডিজিটাল কমার্স খাতে এর প্রভাব' শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক। রবিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ ডেইলি স্টার ভবনে গোল টেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা জানান, এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় ই-কমার্স মাধ্যমে পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়কে বর্তমানে নির্ধারিত আলাদা সেবা থেকে সরিয়ে 'সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল বিজনেস'-এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট অব্যাহতি তালিকা থেকে 'অনলাইন পণ্য বিক্রয়'-কে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটে 'সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল বিজনেস' এর উপর শতকরা ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনে যেকোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। 

বৈঠকে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, 'দেশের নীতি-নির্ধারক ও আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এর জন্যই আমরা বারবার তাদের ই-কমার্সের উপর ভ্যাট না বসানোর কথা বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সংজ্ঞার সঙ্গে ই-কমার্সকে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলেই মূলত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।'

তিনি জানান, ই-ক্যাব আগামী তিন বছরে সারাদেশে আরও ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ই-কমার্সের সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার উদ্যোক্তা সরাসরিভাবে জড়িত। ই-কমার্সের উপর প্রস্তাবিত ভ্যাট তাদের সবার জন্যই একটা মারাত্মক ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। শুধু উদ্যোক্তাদের এই খাতে আসলেই চলবে না, গ্রাহকদেরও নিয়ে আসতে হবে। নতুন করে এই খাতের উপর প্রস্তাবিত ভ্যাট উদ্যোক্তা-গ্রাহক উভয়কেই এ খাত থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।

আরও পড়ুন:  পীরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজাসহ পুলিশের এসআই আটক

তিনি আরও বলেন, 'আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরাও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। আমরা চাই এই পুরো প্রক্রিয়ার উন্নয়ন। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এক্ষেত্রে আমাদের থেকে অনেকটা এগিয়ে। এই খাতে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে নীতি-নির্ধারকদের ডিজিটাল নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে হবে।'

এদিকে বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর জানান, গত কয়েক বছরে যে পরিমাণ গ্রাজুয়েট এই খাতে কর্মসংস্থান খুঁজে নিয়েছে, তা লক্ষ্য করার মতো। এর আগে এত কম সময়ে এ রকম কর্মসংস্থান বৃদ্ধি কখনো দেখা যায় নি।

অনলাইন-শপ 'চাল-ডাল' এর সিওও জিয়া আশরাফ জানান, দুই বছর আগে অনলাইনে প্রতিদিন সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার অর্ডার ছিল। এখন তা প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজারের মতো। এই দিকে গ্রাহকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে ভ্যাট বসানোয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে তা গ্রাহকদের আর আকর্ষণ করবে না।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিয় শপ ডটকমের সিইও আশিকুর রহমান, মাস্টারকার্ডের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ডিজিটাল সময়ের প্রকাশক ও সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অনলাইন পণ্য ও সেবা বিক্রয়কে আগের মতো আলাদা সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করা, এই সার্ভিসের জন্য নতুন সেবা কোড বরাদ্দ ও অনলাইনে পণ্য ও সেবা বিক্রয়কে আগামী তিন বছরের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি