ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


আঙ্কটাডের রিপোর্ট

গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬৮ শতাংশ

গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬৮ শতাংশ
রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদন প্রকাশ

গত ২০১৮ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৬১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি আঙ্কটাড (ইউনাইটেড ন্যাশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, গত বছর বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। পূর্বের বছরের চেয়ে গত বছর বিশ্বব্যাপী বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৩ শতাংশ। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ওই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। এ সময় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ আসার শীর্ষে রয়েছে বিদ্যুত্। এছাড়া খাদ্য, টেক্সটাইল, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, চামড়া ও চামড়াজাত সামগ্রী, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অন্যান্য খাত রয়েছে এ তালিকায়। আর বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভারত।

সালমান ফজলুর রহমান বলেন, সরকারের বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপের কারণে এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। বিডার নেতৃত্বে সমন্বিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর করা হবে। বিশ্বব্যাংকের বাণিজ্য সহজীকরণ সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে (১৭৬ তম)। অবশ্য সালমান এফ রহমান মনে করেন, সরকারের বাণিজ্য সহায়ক নীতি গ্রহণের ফলে আগামী এক বছরের মধ্যে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে ১শ মধ্যে আসতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। আর আগামী দুই বছর, ২০২১ সালের মধ্যে ৫০-এর মধ্যে মেনে আসবে। এছাড়া সম্প্রতি বাজেটে কোম্পানির রিটেইন আর্নিংসের ওপর (অবণ্টিত মুনাফা) নতুন করারোপের সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগকে তিনটি স্থরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বিনিয়োগ, কোম্পানির আয় পুনরায় বিনিয়োগ এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিজস্ব ঋণ। আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় জমির অভাব, অবকাঠামো স্বল্পতা এবং বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুইং (বীজনেস সহজ ব্যবসা করার সূচক) র্যাংকিং বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বেজার নির্বাহী পরিচালক পবন চৌধুরী বলেন, ব্যবসা সহজ করার জন্য এখনো কিছু কাজ করতে হবে। অনুমোদন সংক্রান্ত কার্যক্রমে এখনো অনেক সময় লেগে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ফি ৫শ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫শ টাকা করা হয়েছে কোনো কিছু না বুঝেই। এটি ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে অন্তরায়।

এ সময় প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় বক্তব্য দেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নে সঠিক পথেই এগুচ্ছে। বাণিজ্য সহজ করা, স্বচ্ছ ও নীতিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এফবিসিসিআই সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন