ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও মেধা তালিকায় ১২তম !

ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও মেধা তালিকায় ১২তম !
উপস্থিতি ও রোল নম্বর শিট।ছবি: ইত্তেফাক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও সাজ্জাতুল ইসলাম নামে এক ছাত্র ‘বি’ ইউনিটের ফলাফলে মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেছেন। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ও অভিভাবক মহলে বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

তবে ওই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ১০ সদস্যের কমিটির প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদা কামাল বলেন, উত্তীর্ণ তালিকায় ওই শিক্ষার্থীর নাম ১২তম স্থানে থাকলেও ভর্তি হতে আসেনি।

কুবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর কুবি’র ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ (কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত) ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় মো. সাজ্জাতুল ইসলাম (পিতা- মো. রেজাউল করিম, রোল নম্বর ২০৬০৫০) নামে একজনের ফল মেধা তালিকার ১২তম স্থানে প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সিট প্ল্যান অনুযায়ী তার সিট পড়েছিল কোটবাড়ি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। কিন্তু ওই কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য যে উপস্থিতির তালিকা সরবরাহ করা হয়, সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরের ঘরে ওই ছাত্রের স্বাক্ষর নেই। এতে তার ছবির ঘরও খালি। তার অনুপস্থিতির বিষয়টি ‘লাল কালি’ দিয়ে দেখানো হয়। অথচ গত ১২ নভেম্বর ওই ইউনিটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সাজ্জাতুল ইসলাম ‘বি’ ইউনিট (মানবিক) এর মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেছেন। এদিকে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও মেধা তালিকায় সাজ্জাতুল ইসলামের ১২তম স্থান অর্জনের খবর শুক্রবার জানাজানি হলে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সকল মহলে বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

আরও পড়ুন: সহপাঠীকে উত্যক্ত করায় কলেজছাত্রকে পেটাল ছাত্রীরা

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, বি ইউনিটের ভর্তি কমিটিতে ১০ জন সদস্য আছেন। এ পরীক্ষায় ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। গত ২৬ নভেম্বর থেকে উত্তীর্ণদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এটা চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় ১২তম স্থানে উত্তীর্ণ হলেও সে ভর্তি হতে আসেনি। ভাইভা দিতেও আসেনি।

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর রোল কিভাবে মেধাতালিকায় চলে এলো এমন প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাকে কেউ প্রশ্ন দিতে পারে, এটা প্রক্সি কেইস। তার ওএমআর শিট পূরণ করা আছে। এটা কারও কারসাজিও হতে পারে। তবে ভর্তি হতে আসলে তাকে আমরা ধরে পুলিশে সোপর্দ করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত