ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যাকাণ্ড: প্রতিশ্রুতির ফোয়ারার পর সবাই লাপাত্তা

ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যাকাণ্ড: প্রতিশ্রুতির ফোয়ারার পর সবাই লাপাত্তা
ছাত্রশিবির ক্যাডররা ছাত্রলীগ কর্মী ফারুককে হত্যার পর এভাবেই ম্যানহলে ফেলে রাখে। ছবি: ইত্তেফাক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহীদ ফারুক দিবস পালন করেছে ছাত্রলীগ। এ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অন্য কর্মসূচিও চোখে পড়েনি।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ ম্যানহোলে ফেলে দেয় ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা। এই নৃশংস ঘটনার পর নিহত ফারুকের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ রাখেনি। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফারুকের বোন আসমাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দিলেও আট বছরেও তা স্থায়ী হয়নি।

নিহত ফারুকের বোন আসমা বেগম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহল চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। বাবা এখন অসুস্থ। আমার স্বামীও মারা গেছেন। অর্থাভাবে মামলার খোঁজখবরও রাখতে পারছি না। দলের পক্ষ থেকেও আর তেমন কেউ খোঁজ নেন না। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের যেন শাস্তি হয় এটাই এখন চাওয়া।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দখল নিয়ে শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ নিয়ে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সশস্ত্র ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা ফারুককে খুন করে মরদেহ শাহ মখদুম হলের পেছনের ম্যানহোলে ফেলে রাখে। একই রাতে ছাত্রলীগের তিন কর্মী বাংলা বিভাগের সাইফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ফিরোজ আরিফুজ্জামান ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রুহুল আমীনের হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়াসহ ৮/১০ জনকে হত্যার চেষ্টা চালায়। আসাদুর রহমান নামের ছাত্রলীগের আরেক কর্মীকে শিবিরের ক্যাডাররা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনার পর থেকে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন।

ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু নগরীর মতিহার থানায় ছাত্রশিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী মামলা করেন। ২০১২ সালের ৩০ জুলাই রাজপাড়া থানার তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফারুক হত্যা মামলার ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের শিকার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী, চিকিৎসা নিতে দেয়নি ধর্ষকের পরিবার

এতে জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ, সম্পাদক মোবারক হোসেন, নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, শিবিরকর্মী রুহুল আমিন ও বাপ্পীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এদিকে ফারুক হত্যা মামলার শুনানিতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ১০৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। গত বছরের ২৫ জুলাই রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠনের শুনানি হয়। এ জন্য কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলার সরকারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন জানান, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারকের পদটি বর্তমানে শূন্য থাকায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। চার্জশিট হওয়ার পর সাক্ষীগ্রহণ চলছে। আশা করা যায়, শিগগিরই মামলার বিচারকাজ শেষ হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত