ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬
৩১ °সে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল

ঢাবির আট হলে নেই শহীদ মিনার, দুটির বেহাল দশা

ঢাবির আট হলে নেই শহীদ মিনার, দুটির বেহাল দশা
প্রতীকী ছবি

একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে শহীদও হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। অথচ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩০ বছরে নির্মিত হলগুলোর আটটিতেই নেই শহীদ মিনার। বাকি ১০টি হলে শহীদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হলের শহীদ মিনারের পরিস্থিতি করুণ। বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে শহীদ মিনারগুলো।

শহীদ মিনার না থাকা হলগুলো হলো—বিজয় একাত্তর হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, অমর একুশে হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, স্যার এ এফ রহমান হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও জগন্নাথ হল। এসব হলের শহীদ মিনারের কোনো অস্তিত্ব নেই। হলগুলোর নকশায়ও শহীদ মিনারের কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শহিদ মিনার ছাড়াই রয়ে গেছে এসব হল। অন্য হলগুলো প্রথমে হলের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। কিন্তু ওই আটটি হল সরাসরি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

হলগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শহীদ মিনার আমাদের জাতি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। হলগুলোতে শহীদ মিনার থাকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যদিও পাশেই আমাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, তার পরও প্রত্যেকটা ইনস্টিটিউশনে ছোটো করে হলেও ভাষা আন্দোলনের একটি স্মারক রাখতে হবে।

প্রভোস্ট স্ট্যাডিং কমিটি সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, শহীদ মিনার আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। শহীদ মিনার এবং বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের স্মারক হিসেবে বিবেচিত। এটার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং কোথাও যদি না থাকে তা দ্রুত গতিতে তৈরি করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, যাদের রক্তে বাংলা ভাষার প্রতিটি বর্ণমালা ভিজে আছে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অবশ্যই প্রতিটি হল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউটে শহীদ মিনার স্থাপন করা দরকার। প্রতিষ্ঠার এত বছরেও কেন হলো না, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। হল প্রতিষ্ঠার পর পরই এখানে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করাটা জরুরি ছিল। এসবের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবি জানাতে হবে কেন?

বেহাল দশার শহীদ মিনার: সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শহিদ মিনার রয়েছে বেহাল দশায়। হলের ভেতরের অংশে অবস্থিত শহীদ মিনারটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর কোনো কোনো জায়গায় ফাটলও ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এমন অবস্থা হয়েছে এ শহীদ মিনারের।

শহীদ মিনারটি সংস্কার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, হলের অভ্যন্তরে সবকিছুরই সংস্কার করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কাজ করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আমরা ফেব্রুয়ারির পরেই শহীদ মিনারের কাজ ধরব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শহীদ মিনার সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই শিক্ষার্থীদের। মাঠের মাঝখানে জায়গা করে নেওয়া শহীদ মিনারটি গতানুগতিক শহীদ মিনারের মতো না হওয়ায় এটি সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর প্রান্তে নেই কোনো স্মৃতিফলকও। ফলে শহীদ মিনার থাকলেও এর সঙ্গে পরিচিত নন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘শহীদ মিনারটি নিয়ে ইতিপূর্বে একটা মিথ কাজ করত। এর সম্পর্কে হল প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীরা কিছু জানতো না। অনেকেই জানতে চেয়ে জানতে পারেনি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষের ভিপি ফারুক হোসেন জানিয়েছেন এটা হলের শহীদ মিনার। হলের গঠন-কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অদূর ভবিষ্যতে এ সম্পর্কে কোনো ধরনের মিথ আর থাকবে না বলে আশা করি।’ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গতানুগতিক শহিদ মিনারের মতো না হওয়ায় হলের এ শহীদ মিনার সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানত না। তবে আমরা এখন উদ্যোগ নিয়েছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যে শহীদ মিনারের পার্শ্ববর্তী এলাকা সুন্দর করে সাজাতে পারব।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৯ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন