ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬
২৫ °সে

ঢাবির হলে রাতেই কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা

ঢাবির হলে রাতেই কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা
ঢাবির হলে রাতেই কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে এক রাতের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যােগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এতে সকাল থেকে নবনির্মিত মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় হলের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিষ্ঠার ৬ বছর পার হয়ে গেলেও দীর্ঘদিন কোন শহীদ মিনার ছিল না হলে। ফলে শিক্ষার্থীদেরকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেও নিজের হলে থেকে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারতো না। বৃহস্পতিবার রাতে ৭টি কলা গাছের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীরা। ৭টি কলা গাছ ও ফুল দিয়ে হলের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে শহীদ মিনারটি স্থাপন করা হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক ইত্তেফাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শহীদ মিনারের পরিস্থিতি সম্পর্কিত 'আটটিতে নেই শহীদ মিনার, দুটির বেহাল দশা' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই হল সংসদের পক্ষ থেকে এমন উদ্যাগ নেয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, 'শহীদ মিনার না থাকা হলগুলো হলো—বিজয় একাত্তর হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, অমর একুশে হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, স্যার এ এফ রহমান হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও জগন্নাথ হল। এসব হলের শহীদ মিনারের কোনো অস্তিত্ব নেই। হলগুলোর নকশায়ও শহীদ মিনারের কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শহিদ মিনার ছাড়াই রয়ে গেছে এসব হল। অন্য হলগুলো প্রথমে হলের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। কিন্তু ওই আটটি হল সরাসরি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।'

প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্যে উল্লেখ করে বলা হয়, 'শহীদ মিনার আমাদের জাতি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। হলগুলোতে শহীদ মিনার থাকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যদিও পাশেই আমাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, তার পরও প্রত্যেকটা ইনস্টিটিউশনে ছোটো করে হলেও ভাষা আন্দোলনের একটি স্মারক রাখতে হবে।'

এমন উদ্যােগের বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি সজিবুর রহমান সজিব বলেন, হলে কোন শহীদ মিনার না থাকায় হল সংসদের পক্ষ থেকে এই অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।এখানে হলের শিক্ষার্থী, কর্মচারী কর্মকর্তা সহ সকলেই ফুল দিয়ে আমাদের ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

তিনি বলেন, শৈশবে গ্রামে বসবাসকালীন সময়ে কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরী করা হতো। কায়িকশ্রমে তৈরী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আমাদের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতাম। তখনকার সময়ে ভাষা শহীদের আত্মত্যাগের মহান দিক সম্পর্কে খুব বেশী কিছু না জানলেও এখন বুঝি অনেক কিছুই জানি, বুঝি। এতদিন হলে শহীদ মিনার ছিলো না, আজকের এই উদ্যােগের মাধ্যমে শহীদদের ত্যাগ স্থায়ী করতে হল প্রশাসনের নিকট দাবি জানাবো।

সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজএস) আবু ইউনুস বলেন, বিজয় একাত্তর হল মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরাগের স্মারক। অথচ হলটিতে কোন মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে, ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামের অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা কোন স্থাপনা না থাকাটা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীরা একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, যা এই অসংগতি দূর করবে বলে বিশ্বাস করি।

হল প্রধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, শিক্ষার্থী এবং হল সংসদের এ উদ্যাগ প্রশংসনীয়। এতদিন হল সংসদ ছিলো না, শিক্ষার্থীদের মাঝে সেভাবে সচেতনতাও তৈরী হয়নি। এখন হল সংসদ হওয়ার কারণে সে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি, এ অস্থায়ী শহীদ মিনার অতিদ্রুত পূর্ণাঙ্গ রুপ লাভ করবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৫ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন