ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

এক বছরেও জ্ঞান ফেরেনি সেই মুন্নীর

এক বছরেও জ্ঞান ফেরেনি সেই মুন্নীর
বাড়িতে শয্যাশায়ী মুন্নী। ছবি: ইত্তেফাক

নার্সের একটি ভুল ইনজেকশনে পুশ করার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নীর জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এক বছর পার হলেও চোখ খুলে তাকানোর চেয়ে বেশি সুস্থ হননি তিনি। এই একটি বছরে শয্যাশায়ী মুন্নীকে পাইপের মাধ্যমে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। আর এভাবেই চলছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নীর জীবন সংগ্রাম।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ মে পিত্তথলিজনিত সমস্যার কারণে মুন্নীকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২১ মে সকালে ভুল বশত অ্যানেস্থেসিয়ার (অজ্ঞান কারার) ইনজেকশন মুন্নীর শরীরে পুশ করেন এক নার্স। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান মুন্নী। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরেও ফিরে আসেনি মুন্নীর জীবনের স্বাভাবিক গতি। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে।

মুন্নীর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তার ভাই হাসিবুল রুবেল বলেন, এক বছর পার হয়ে গেলেও মুন্নী এখনো সুস্থ হয়ে ওঠেনি। চোখ খুলে তাকালেও পরিবারের কাউকে চিনতে পারে না, কোনো কথা বলতে পারে না, চলাফেরা করতে পারে না। আপাতত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু খিচুনি বন্ধের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আমার বোনের আর কোনো চিকিৎসা চলছে না।

এদিকে এ ঘটনায় মুন্নীর চাচা জাকির হোসেন বাদি হয়ে গোপালগঞ্জ থানায় চিকিৎসক তপন কুমার মন্ডলসহ দুই নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করলেও এখনো মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স শাহানাজ এবং কুহেলিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেয় সেবা অধিদপ্তর।

ইত্তেফাক/এসি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন