বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা শনাক্তের ল্যাব

বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা শনাক্তের ল্যাব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে (কারস) এ স্থাপিত করোনা শনাক্তের ল্যাব বন্ধ হয়েছে। আজ সোমবার থেকে এটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। সাধারণ ছুটি তুলে নিয়ে গতকাল রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও নিজস্ব অফিসিয়াল কার্যক্রম সীমিতভাবে শুরু করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা শনাক্তের ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। আর তাই করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর করোনা ভাইরাসের কোন নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

গত ৫ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে (কারস) ভবনে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য তৈরি ল্যাবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তখন থেকে এ ল্যাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হতো।

উপাচার্য বলেন, আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। আর্থিক কারণে নয়, আমাদের আগে থেকেই কথা ছিল ৩১ মে পর্যন্ত আমরা এটা চালিয়ে যাব। গত ২৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর তাছাড়া আমাদের এটা তো বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল নয়। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সময় দিতে হবে। ল্যাবের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমাদের বিভিন্ন বিভাগ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো এখন সেখানে গবেষণার কাজে প্রয়োজন হচ্ছে। সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে আবার সেখানে স্থাপন করতে হবে। মূলত এজন্য করোনার নমুনা পরীক্ষার কাজটা আর হচ্ছে না।’

তবে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা এবং পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবসহ মৌলিক চারটি কারণে ল্যাব বন্ধ হচ্ছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটি।

চিঠিতে জানানো মৌলিক কারণগুলো হচ্ছে:

১. করোনা পরীক্ষার ল্যাবে কাজ করে তারা স্পেশালিস্ট না। তারা তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তাদের কোন মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। যে কারণে তারাও কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন।

২. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি বিশ^বিদ্যালয়। প্রতিমাসে ১৫-২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। তাই এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

৩. স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যারা কাজ করছে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, গবেষণা করে। সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত খোলা হওয়ায় তারা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে চলে যাবেন। আবার যারা কাজ করছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন ধরনের আর্থিক সহায়তা, লজিস্টিক সাপোর্ট পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়নি।এমনকি স্বাস্থ্য প্যাকেজের অধীনেও রাখা হয়নি।

৪. লজিস্টিক সাপোর্ট, বিভিন্ন অনুষদ এবং বিভাগের ইকুয়েপমেন্ট, যন্ত্রপাতি নিয়ে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে এটি স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতিগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ, তাদের গবেষণার বিষয় রয়েছে। তাদের বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয় রয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত