বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
৩০ °সে

মেয়াদহীন ডাকসু

‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী’ নির্বাচন আশ্বাসেই শেষ

‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী’ নির্বাচন আশ্বাসেই শেষ
ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চের ২৩ তারিখ। ফেব্রুয়ারীর শুরু থেকেই ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী’ নির্বাচন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছেন উপাচার্য। নির্ধারিত ৩৬৫ দিনের মেয়াদ পার হয়ে শেষ হয়েছে আরও ৯০ দিনের অতিরিক্ত মেয়াদ। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ের পরও নির্বাচন নিয়ে কোন কাজই করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হলেও তাতে সায় দিচ্ছেন না উপাচার্য।

প্রায় তিন দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে গত বছরের ১১ মার্চ ডাকসুর নির্বাচন হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে হিসেবে এ বছর ২৩ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন নির্বাচন না হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৯০ দিন সময় বাড়ানো হয় বর্তমান কমিটির।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, খুব শিগগির নির্বাচন দেয়ার কোন পরিকল্পনা নেই প্রশাসনের। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান করা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময়, চিফ রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, তাফসীল ঘোষণাসহ নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের কোনটিই এখনো পরিকল্পনায় নেই প্রশাসনের।

নির্বাচন নিয়ে কোন কর্মযজ্ঞ না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের কথা বলেন ফের। তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হবে এবং নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অথচ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো আরও আগে। ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ এর (গ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচিত পদাধিকারীগণ ৩৬৫ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না করা যায়, তাহলে অতিরিক্ত সময় হিসেবে অনুর্ধ্ব ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ বাতিল হয়ে যাবে।’ গঠনতন্ত্রের হিসেবে গতকাল মেয়াদ শেষ হয় ডাকসুর।

নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলেন বর্তমান ভিপি (সহসভাপতি) নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, গত ১৪ জুন সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে আমি পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উপাচার্য কোনো উত্তর দেননি। ডাকসুর নির্বাচন নিয়ে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে।

পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে উপাচার্য জানান, ‘উপাচার্যের একক সিদ্ধান্তে ডাকসু নির্বাচন হয় না। এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এতে অনেক স্টেকহোল্ডার জড়িত । তাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।’

পদে থাকতে চাইছেন ভিপি-জিএস, এজিএসের ‘না’

করোনাভাইরাস সৃষ্ট সঙ্কটে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এবং ডাকসুর খরচের অডিটসহ বিভিন্ন কাজ বাকি রয়ে গেছে বলে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর ও জিএস গোলাম রাব্বানীসহ সংসদের একাংশ। অন্যদিকে এজিএস সাদ্দাম হোসেনসহ একাংশ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পদ ধরে রাখার চেষ্টাকে অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক বলে মনে করেন।

ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধরে আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। এখন সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে। আমরা চাই পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের সুযোগ দেওয়া হোক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন দিয়ে ধারাবাহিতা বজায় রাখা হোক।

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেক কাজই অসম্পূর্ণ রয়েছে। এখনও আমাদের খরচের অডিট বাকি; মাত্র ছয় মাসের অডিট সম্পন্ন হয়েছে। ডাকসুর ফান্ডে ৯০ লাখ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। এই টাকাটা আমরা শিক্ষার্থীদের সহায়তায় খরচ করতে চাই।

ভিপি-জিএস এর সাথে একমত নন এজিএস সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত করেছে। এখন মেয়াদ শেষ হয়েছে, আমাদের উচিত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে পদ ধরে রাখা অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের চর্চা করে, তারা অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত