বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
২৮ °সে

করোনার বন্ধে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ৮০ ভাগ কমে গেছে

করোনার বন্ধে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ৮০ ভাগ কমে গেছে
ফাইল ছবি

করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় উল্লেখযোগ্য হারে কমছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়। ‘ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, আগে যেখানে গ্রামের শিক্ষার্থীরা দিনে স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে নিজেদের পড়ালেখা মিলে ১০ ঘণ্টা ব্যয় করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়, অর্থাত্ ৮০ শতাংশ সময় কমেছে পড়াশোনার।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার এসব ফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যদিও মনে হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিজেদের পড়াশোনার সময় বৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়ালেখার হার কমেছে অনেকটাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাতেও শিক্ষার্থীরা খুব বেশি মানিয়ে নিতে পারেনি। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুইটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে।

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো কম্যুনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। মহামারি-সৃষ্ট অনেক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের এই মূল শক্তিটিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেটা হতে পারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে, কিংবা শিক্ষাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে। আমাদের অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।

গবেষক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের শিশুদের পড়াশোনায় ব্যয় করা সময় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ২ ঘণ্টায় নেমে গেছে। গ্রামের বাচ্চারা এখন পরিবারের কাজের পিছনে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য। স্কুল বন্ধ হওয়ায় ৬ ঘণ্টা বা ৫০ শতাংশ বেঁচে যাওয়া সময় আমাদের গবেষণায় ‘অ-গ্রহণীয়’। পরবর্তী ধাপে, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরো গবেষণা করব।’

মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা বাংলাদেশের শহরের বস্তি ও গ্রাম এলাকার ৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণাটি করেছেন।

ওয়েবিনারে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ গবেষণায় প্রাপ্ত ফল উপস্থাপন করেন। ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, ব্র্যাক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (বিআইইডি) এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত