বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
২৮ °সে

আইসিএমএবি বাজেট পরবর্তী আলোচনা

বিভিন্ন খাতে অপব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

বিভিন্ন খাতে অপব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী
আইসিএমএবি আয়োজিত বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া বিষয়ক এক ওয়েবিনার।

‘প্রথমত আমাদের মানুষকে বাঁচাতে হবে আর সবকিছু চালু রাখতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে যাতে কোনোকিছু একেবারে বন্ধ না হয়ে যায়। আমাদের বুঝতে হকে যে এবারের বাজেটটা হচ্ছে এক ধরনের রিকভারি বাজেট। সরকার স্বাস্থ্য এবং কৃষিখাতে গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে’- পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া বিষয়ক এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন।

চলতি বছরে বেশ বড় ঘাটতি রেখে বাজেট ঘোষণার প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রয়োজন বিভিন্ন খাতে আমাদের ব্যয়গুলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ করা। আমাদের অনেক খাতেই অপব্যয় হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খরচ করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বিভিন্ন সময় দেখা যায় ভুলভাবে বা অনিয়ন্ত্রিত বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচ হয়। এগুলো সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, একটা সময় ছিল যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা শুনলে অনেকে অলীক মনে করত, বিশ্বাসই করতে চাইত না। তবে সেই সময় কিন্তু এখন আর নেই। আমরা যদি বিভিন্ন খাতে আমাদের যথাযথ ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারি, আমাদের উন্নয়ন সম্ভব হবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিসরের সবাইকে এগিয়ে আসার এবং একসাথে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

আইসিএমএবি আয়োজিত ওয়েবিনারটিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে সেমিনার ও কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন এফসিএমএ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু বকর সিদ্দিক এফসিএমএ।

ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশীদ এফসিএমএ সক্রিয়ভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যার প্রথমার্ধে তিনি বাজেট বিষয়ে বক্তাদের আলোচনায় সংশ্লিষ্ট হন এবং পরবর্তী অংশে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্ন বক্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন এবং সেই অনুসারে মতামত প্রদান করেন।

আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন আকন্দ এফসিএমএ দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে কাজের জন্য জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির জন্য যদিও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তারপরেও প্রতিটি খাতে যদি যথাযথ ব্যয় এবং অপব্যয় নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করা যায়, তাহলে আমাদের সীমিত সম্পদেও যথাযথ ব্যবহারেই আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং পেশার দক্ষ জনশক্তি এ ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে এবং কাজে যথাযথ ব্যয়ের বিষয়টি নিশ্চিতে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ রাখেন। পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে তিনি এ প্রেক্ষিতে খেলাপী ঋণের মূল্যায়নের বিষয়ে সিএমএ পেশাদারদের সংশ্লিষ্টকরণ, কনজ্যুমার অডিট বিদ্যুৎখাতে পেশাদার সিএমএ দ্বারা মূল্যায়ন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সিএমএ পেশাদারদের সংশ্লিষ্টকরণসহ সকল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে কস্ট অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. স্বপন কুমার বালা এফসিএমএ এবং আইসিএমএবি ঢাকা ব্রাঞ্চ কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার সরকার এফসিএমএ, এফসিএ বাজেট এবারের বাজেট বিষয়ে তাত্ত্বিক এবং পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এনডিসি, রঞ্জন কুমার ভৌমিক এফসিএমএ, মেম্বার (ট্যাক্স সার্ভে অ্যান্ড ইনস্পেকশন), এনবিআর; চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আলোচক হিসেবে এ ওয়েবিনারে অংশ নেন।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত