বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

করোনা ও বন্যার প্রভাবে বাড়ছে শিশুশ্রম

দেশে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে স্কুলশিশু

দেশে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে স্কুলশিশু
ক্লাসরুমে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারি ও বন্যা পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষ্যাবস্থা পড়েছে ঝুঁকির মধ্যে। বিশেষ করে গ্রামের নিম্ন-নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা নাজুক অবস্থায়। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, বর্তমান করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে প্রায় এক কোটি শিশু চিরদিনের মতো শিক্ষার সুযোগ হারাবে। সংস্থাটি আরো জানায় , বিশ্বের ২৮টি দেশের শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার পাশাপাশি রয়েছে বাল্যবিয়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। এসব বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা এখন খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়ন কতটা হবে তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, চলতি বছরের গত মে মাসে বাল্যবিয়ের পরিমাণ ছিল ১৭০টি। সেটি জুন মাসে দাঁড়িয়েছে ৪৬৪টিতে।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজধানীতে কাজের আশায় পাড়ি জমিয়েছে ১২ বছর বয়সি মিল্লাত হোসেন। মিল্লাত হোসেন বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রি করে। বাকি সময় একটি বাজারে অন্যের কেনা পণ্য বয়ে নেওয়ার কাজ করে। তাতে যে টাকা পায় তাই দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে চলে যায় মিল্লাতের দিন। মিল্লাতের ভাষায়, ‘বাড়ি বানেতে ভাসি গেইছে। অহন নতুন করে আমাগো গ্রামে ঘর তুলতি হবে। আমার মা নানির বাড়িতে আছে। আর দুই বছরের বড় বোইনকে আব্বায় বিয়া দিছে। ’

মিল্লাতের বাবা ফজলু মিয়া বলেন,‘ ছেলে স্কুলে পড়তো ক্লাস ফাইভে, আর মেয়ে পড়তো সিক্সে। এখন স্কুল বন্ধ। ছেলেমেয়ের আর স্কুলে পড়া হইবে না। এখন আমাদের বাঁচি থাকাই কষ্টসাধ্য। গ্রামে কামকাজ নাই। নিজের একটা ঘর আছিল, সেটাও বানের পানিতে ভাসি গেইছে। উপায় না দেখি, শহরত আসচি। মেয়ের বিয়া দিয়ে দিচি। ’

গণসাক্ষরতা অভিযানের নিবার্হী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, চলতি অর্থবছরে আমরা শিক্ষা খাতের বাজেটে পেলাম ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এই অর্থ দিয়ে আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে পড়বে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে শিক্ষা খাতে যে বাজেট আছে তা পর্যাপ্তই। কারণ গত বছরের শিক্ষা খাতের বাজেটের অর্থ আমরা শেষ করতে পারিনি বলে তা ফেরত গেছে। সেখানে এ বছর যে বাজেট আছে তা দিয়ে আমরা কাজ ঠিক মতোই করতে পারব।

ইউনেস্কো বলছে, মোট জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার কথা, সেখানে বেশ কয়েক বছর ধরে মাত্র জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৬৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ২ দশমিক শূন্য শতাংশ।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত