অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি নেওয়ায় শঙ্কিত শাবি শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি নেওয়ায় শঙ্কিত শাবি শিক্ষার্থীরা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ক্যাম্পাস বন্ধ করতে বাধ্য হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছুটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেশনজট এড়াতে ইউজিসির আহ্বান অনুসারে, গত ৩১ মার্চ হতে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসের যাত্রা শুরু করে শাবি প্রশাসন। যেখানে, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করতে ক্লাস উপস্থিতি নেওয়ার ব্যাপারে শিক্ষকদের কোনো প্রকার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষকদের প্রতি অনলাইন ক্লাসে নির্দেশনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো ধরনের নির্দেশনা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে, এ মুহূর্তে যেকোনো মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে সংযুক্ত থাকার ব্যাপারে বলা দেওয়া হয়েছে। হোক সেটা, গুগল ক্লাসরুম, জুম অ্যাপস বা যেকোনো ধরনের প্লাটফর্ম। তারপরও কোনো শিক্ষক যদি অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি নিয়ে থাকে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।

তবে ইত্তিফাকের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীয়ম-নীতি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে বাধ্য করতে ক্লাস উপস্থিতি নিচ্ছেন অনেক বিভাগের শিক্ষকরা। আর অনলাইন ক্লাস উপস্থিতির উপর নম্বর দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এ সকল বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক খুব বাজে। ফলে ক্লাস বারবার ডিসকানেক্টেড হলে স্যারদের কথা শুনতে পাইনা। এতে করে মনোযোগ চলে যায়, বিরক্তও লাগে। আবার আমার বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা ডিভাইসের অভাবে ক্লাস করতে পারছে না। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষক অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি নিচ্ছেন। এমতাবস্থায় অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির উপর মার্ক দিলে আমরা বিপাকে পড়ে যাবো।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক না থাকায় আমিসহ আমার অনেক বন্ধুরা ক্লাসে উপস্থিত হতে পারি না। ফলে, অধিকাংশ কোর্সের প্রাথমিক ধারণাই পাচ্ছি না। ফলে, কোর্স সম্পন্ন করা নিয়ে চিন্তায় আছি। এদিকে, আমাদের কয়েকজন শিক্ষক অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি নিচ্ছেন। যেটা আমাদের জন্য রীতিমত বোঝা হয়ে পড়ছে। শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করবো ক্যাম্পাস খোলার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি না নেওয়া হয়।

লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক শিক্ষকতো বলেই দিয়েছেন আমি প্রত্যেক ক্লাসে উপস্থিতি নিবো। কেননা, ক্লাসে ৬০% উপস্থিতি ছাড়া পরীক্ষা দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, আরেক শিক্ষকও ক্লাসে নিয়মিত ক্লাস উপস্থিতি নিচ্ছেন। ফলে, আমি মানসিক চাপে পড়ে যাচ্ছি। কেননা, আমার এলাকায় নেটওয়ার্কের অবস্থা খুবই বাজে।

সার্বিক বিষয়ে শাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ক্লাশ শুরু হলে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং অনুযায়ী এবং ভিসি স্যারের নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। পরবর্তীতে অবশ্যই আমরা ছাত্রবান্ধব একটা সিদ্ধান্ত নিবো। শিক্ষার্থীরা যতটুকু পারুক ক্লাসে অংশগ্রহণ করুক। আর নৈতিক কারণে কোন শিক্ষার্থী যদি ক্লাস করতে না পারে, তারা যেন আমাদের কাছে আপিল করে। তাদের বিষয়টা আমরা দেখবো।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত